বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবার দেখা যাক, এনবিআর নভেম্বর মাসে কী ধরনের নতুন সেবা চালু করছে। প্রতি কর অঞ্চলে উৎসবমুখর মেলার আবহ তৈরি করা হবে। প্রতিটি কর অঞ্চলে এই ধরনের মেলার পরিবেশ তৈরি জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবার বাজেট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। কর অঞ্চলগুলোই ছোট ছোট কর মেলার আসর বানানো হবে। তাই এবার মেলার কথা চিন্তা না করে সরাসরি করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে চলে যাবেন। পুরো নভেম্বর মাসজুড়ে সেখানে সব সুবিধা পাওয়া যাবে।

আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর সব কর অঞ্চলে কর মেলার মতো সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে রিটার্ন জমার পাশাপাশি রিটার্ন ফরম পূরণে সহায়তা করা হবে। রিটার্ন গ্রহণের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে আপনার জন্য অপেক্ষা করবেন কর কর্মকর্তারা। মেলায় যেমন তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেওয়া হয়, তেমনি রিটার্ন জমার বুথ থেকে সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেওয়া হবে। প্রাপ্তিস্বীকারপত্র মানে, আপনার করের রিটার্নে যা উল্লেখ করেছেন, যত টাকা কর দিয়েছেন—তা প্রাথমিকভাবে মেনে নিয়েছেন কর কর্মকর্তারা।

সেবাকেন্দ্রে শুধু কর রিটার্নই দাখিল করা যাবে না; ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই–টিআইএন) নিবন্ধন ও পুনর্নিবন্ধনও করা যাবে। অর্থাৎ, আপনি যদি করদাতার খাতায় লেখাতে চান, তাহলে অবশ্যই ই–টিআইএন নিতে হবে। এটি ছাড়া রিটার্ন যেমন দেওয়া যায় না, আপনি বহু কাজ করতে গিয়ে আটকে যাবেন।

সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবশ্য আলাদা ব্যবস্থা করছে এনবিআর। তাঁদের জন্য ১ থেকে ১৫ নভেম্বর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে রিটার্ন গ্রহণ বুথ ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করবে কর অঞ্চল-৪। সরকারি কর্মকর্তারা সেখানে তাঁদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিবারের মতো সচিবালয়েও আলাদা বুথ থাকবে। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য নভেম্বর মাসে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দুদিন বিশেষ রিটার্ন বুথ স্থাপন ও কর তথ্যসেবা প্রদান করা হবে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে এই স্থান নির্বাচন করবে এনবিআর।

আয়কর বিবরণী জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। দেশে এখন ৬২ লাখ টিআইএনধারী আছেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। অবশ্য গতবার মাত্র ২৫ লাখের মতো করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।

এবার দেশের সেরা করদাতাদের জাঁকজমক অনুষ্ঠান করে কর কার্ডসহ অন্যান্য সম্মাননা দেওয়া হবে। নভেম্বর তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলে এই অনুষ্ঠান হবে। বিভিন্ন শ্রেণিতে এনবিআর প্রতিবছর সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা দিয়ে থাকে। করোনার কারণে গতবার এই সম্মাননা অনুষ্ঠান করে দেওয়া হয়নি।
৩০ নভেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস। দিবসটি উপলক্ষে এবার আগের মতো শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে না। তবে সভা–সেমিনারের আয়োজন থাকবে। কর কার্যালয়গুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন