বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেটের অঙ্ক মেলানোর জন্য এনবিআরকে বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় পৌনে সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট আসছে। এই বিশাল বাজেটে অর্থের জোগান দিতে এনবিআরকে এত বড় লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। মূলত ব্যয় বাজেটের সঙ্গে সংগতি রাখতেই এটি করা হচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এত বেশি শুল্ক-কর আদায়ে এনবিআরের যেমন সক্ষমতা নেই, তেমনি অর্থনীতিতেও সেই পরিস্থিতি নেই।’

চলতি অর্থবছরেও শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়ায় এ বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা কমে হতে পারে ৩ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর চিন্তা

করোনার কারণে অনেক করদাতার আয় কমেছে। আবার জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসারের খরচ বেড়েছে। এ রকম অবস্থায় নতুন অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা। এর মানে একজন করদাতার বছরে করযোগ্য আয় তিন লাখ টাকার কম হলে কর দিতে হয় না। আগামী অর্থবছরে এ সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। অবশ্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ালে বিপুলসংখ্যক করদাতা করজাল থেকে বেরিয়ে যাবেন, আর যাঁরা করজালে থাকবেন, তাঁদের করের পরিমাণ কমবে। এ কারণে বর্তমান প্রান্তিক করদাতাদের করজালে ধরে রাখতে বিকল্প চিন্তাও করছেন কর কর্মকর্তারা। বিকল্প হলো, বর্তমান করমুক্ত আয়সীমার প্রথম এক লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়। এ সীমা বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা কিংবা আরও বেশি করা হতে পারে। ফলে করের পরিমাণ কিছুটা কমলেও করজালে করদাতার সংখ্যা কমবে না।

বর্তমানে ৭৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। জমি কেনা ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী—এ দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া সবার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কালোটাকার সুযোগ থাকতে পারে

আগামী অর্থবছরেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা হতে পারে বলে এনবিআরের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও জমি-ফ্ল্যাট ক্রয় করে নগদ কালো সাদা করার সুযোগ আছে। এসব খাতে আগামী ৩০ জুন কালোটাকা সাদা করার সুযোগ শেষ হওয়ার কথা। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সুযোগ আরও এক বছর বাড়ানোর আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সরকারের উচ্চ মহল।

ফ্ল্যাট ও জমিতে আয়তন ও এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলে এখন টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চান না কর কর্মকর্তারা। আর নগদ টাকা বা সঞ্চয়পত্র ও নানা ধরনের আমানতের ওপর ২৫ শতাংশ কর ও করের ওপর ৫ শতাংশ জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারেও কালোটাকা সাদা করা যায়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মেলেনি। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬৯৪ জন কালোটাকা সাদা করেছেন। এর মধ্যে ৫৫৮ জন ফ্ল্যাট ও জমির মালিক কালোটাকায় কেনা সম্পদ দেখিয়েছেন। ১২৩ জন করদাতা জানিয়েছেন, তাঁদের নগদ টাকা কিংবা সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের টাকার উৎস বৈধ নয়। তাঁদের বেশির ভাগই নগদ টাকা সাদা করেছেন। এ ছাড়া কালোটাকা নিয়ে শেয়ারবাজারে গেছেন ১৩ জন বিনিয়োগকারী।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন