default-image

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত আসার পর বরিশালের শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের মালিকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, কলকারখানাকে লকডাউনের আওতায় এনে বন্ধ করে দেওয়া হলে একদিকে রপ্তানিমুখী শিল্প লোকসানে পড়বে, পাশাপাশি এসব শিল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা ছুটি নিয়ে যে যাঁর বাড়িতে গিয়ে অবাধে চলাচল করার সুযোগ পাবেন। এতে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ জন্য শিল্পকারখানাকে এই লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা যায় কি না, সে বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন তাঁরা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর প্রতিদিনই এর উল্লম্ফন হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কলকারখানাও বন্ধ থাকবে। তবে ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফার সরকারি বিধিনিষেধে শিল্পকারখানা খোলা রয়েছে।
বরিশালের রপ্তানিমুখী শিল্পের মালিকেরা বলছেন, শিল্পকারখানা লকডাউনের আওতায় আনা হলে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে লাখো শ্রমিক বাড়িতে স্বজনদের কাছে যাবেন এবং নির্দ্বিধায় বাইরে চলাচল করবেন। এতে করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, বরিশাল বিসিকে তাঁর পাঁচটি কারখানায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁরা সকাল থেকে রাত অবধি কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেন এবং ইচ্ছা হলেই নির্দ্বিধায় তাঁরা বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পান না। ফলে, কারখানায় শ্রমিকদের করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। কিন্তু কারখানা বন্ধ হলে তাঁরা বাড়িতে যাবেন এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করবেন। তাতে পরিস্থিতি হিতে বিপরীত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে লকডাউনের সময় এমন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়ার কথা উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের সাধারণ ছুটিতে আমাদের কারখানার সাত শতাধিক কর্মী বাড়িতে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল।’ তিনি জানান, বিসিকের সব কারখানার শ্রমিকেরা এখনো করোনার কোনো লক্ষণ থেকে মুক্ত। তবে যখন লকডাউনে কারখানা বন্ধ হবে, তখন তাঁরা বাইরে চলে যাবেন। এতে অনেকেই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

বিসিকের এম জে নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমানুর রহমান বলেন, আগের অভিজ্ঞতায় সব শ্রমিক লকডাউনের ছুটি পেয়ে নিজ শহর ও গ্রামে গিয়েছিলেন, যা শ্রমিকদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, লকডাউনে কলকারখানা বন্ধ করে দিলে শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁরা পুনরায় খোলার পরে কারখানায় ফিরতে পারবেন না। এতে কারখানা এবং শ্রমিক উভয়েই আর্থিক সংকটে পড়বেন।

বিসিকের শিল্পমালিকেরা বলছেন, লকডাউনের কারণে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন কমে যাবে। এতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যা রপ্তানি আয়ে ব্যাপক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। সাত দিনের লকডাউনে বরিশালের রপ্তানিমুখী শিল্পের মালিকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হতে পারে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন