বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলার

বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে। টাকার অঙ্কে পরিমাণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। গতবার মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৪ ডলার।

প্রবাসী আয়ে স্বস্তি

পুরো অর্থবছরে ছিল করোনার প্রভাব। এর মধ্যেও প্রবাসীরা আগের চেয়ে বৈধ পথে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। কারন বেশীরভাগ সময় বন্ধ ছিল বিদেশে বিমান চলাচল। ফলে অবৈধ পথে প্রায় বন্ধ ছিল।

রিজার্ভে রেকর্ড

করোনার কারনে আমদানিতে তেমন চাপ ছিল না। আবার প্রবাসী আয় ভালো এসেছে । এ কারনে রিজার্ভে নতুন নতুন রেকর্ড হয়েছে। এখন বেড়ে হয়েছে ৪৬ বিলিয়ন ডলার।

ঋণে অনাগ্রহ

সুদ হার কমলেও করোনার কারনে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। কম সুদের প্রণোদনার ঋণ বেশি বিতরণ হচ্ছে। তাই আমানত যেভাবে বেড়েছে, ঋণ তত বাড়েনি। এতে ব্যাংকে জমেছে বিপুল অলস অর্থ।

করোনায়ও নতুন ব্যাংকের অনুমোদন

করোনার মধ্যেও নতুন ২টি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে একটি চালু হয়েছে আর চালুর অপেক্ষায় আছে অন্যটি।

বিশেষ সুবিধায় কমল খেলাপি ঋণ

ঋণ পরিশোধ না করলেও কেউ খেলাপি হবে না– এমন সুবিধা ছিল এ অর্থবছরে। তাতে ব্যাংক খাতে কাগজে কলমে খেলাপি ঋণ বাড়েনি।

শেয়ারবাজারে চাঙাভাব

করোনার মধ্যেই পুরো অর্থবছর জুড়েই শেয়ারবাজারে ছিল চাঙাভাব। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন–এ সময়ে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ হাজার ৫৫ পয়েন্ট বা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর ১০০ কোটি টাকার লেনদেন ছাড়িয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।

বাতিল হলো আইপিও লটারি

এ অর্থবছরেই শেয়ারবাজারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ব্যবস্থা থেকে লটারি প্রথা তুলে নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

সংকটে বেড়েছে আমানত

সঙ্কটে সঞ্চয় বাড়ে। তাই সুদ হার কমে হলেও মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখা বাড়িয়েছে। মূলত খরচের জায়গা কমে আসায় মানুষ সঞ্চয় করেছে। এতে বেড়েছে ব্যাংক আমানত।

রপ্তানি আয়ে সুবাতাস

করোনা ধাক্কা কাটিয়ে পণ্য রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। যদিও গত ২০১৯-২০ অর্থবছর রপ্তানি আয় কমেছিল ১৭ শতাংশের মতো।

বিজিএমইএতে ভোট

দীর্ঘ আট বছর পর পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছে এপ্রিলে। নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৫ পরিচালক পদের মধ্যে ২৪ টিতে বিজয়ী হয়েছে। সভাপতি হয়েছেন ফারুক হাসান।

এফবিসিসিআইতে আবার সমঝোতা

এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনে গত ৫ মে সাধারণ সদস্যরা আর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তার আগেই ৪৬ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হোন। ৩২ জন মনোনীত পরিচালকও একইভাবে নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়েছেন। সভাপতি হয়েছেন জসিম উদ্দিন।

লোকসানে পাটকল বন্ধ

লোকসানের বোঝা বইতে না পেরে ২৫ পাটকলের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) পাঠিয়ে গত বছরের ১ জুলাই ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয় সরকার। বিজেএমসির আওতায় গত জুন পর্যন্ত ২৬টি পাটকলের মধ্যে চালু ছিল ২৫ টি। এক বছরেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভাড়া বা ইজারায় চালু করা যায়নি পাটকলগুলো

এডিপি বাস্তবায়নে শ্লথগতি

চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৮.৩৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে খরচ হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর এডিপি বাস্তবায়ন বেড়েছে মাত্র এক শতাংশ। এ বছর সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দুই লাখ নয় হাজার ২৭২ কোটি টাকা।

পানের ইউরোপ যাত্রা

দীর্ঘ ছয় বছর আট মাস পর গত মে মাসে বাংলাদেশের পান আবার বৈধভাবে ইউরোপে গেছে। প্রথম চালানে প্রায় ১ টন পান যুক্তরাজ্যের রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশি পানে ক্ষতিকর স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া অস্তিত্ব ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই রপ্তানি বন্ধ হয়েছিল।

বৈশাখের ব্যবসায় ধস

করোনায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো পয়লা বৈশাখের ব্যবসা মার খেয়েছে। করোনা সংক্রমণে লাগাম টানতে ৫ এপ্রিল দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ করা হয়। পরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে খুলে দেওয়া হলেও পয়লা বৈশাখের দিন আবার লকডাউন শুরু হয়।

সৌদিতে মাছ রপ্তানি বন্ধ

ক্রয়াদেশ পেয়েও সৌদি আরবে মাছ রপ্তানি করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। গত নভেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে রপ্তানি বন্ধের হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই মূলত সৌদি আরবে মাছ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

সোনার রেকর্ড দাম

সোনার দামে পাগলা হাওয়া লেগেছে। গত বছরের ৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তখন দেশে এক ভরির দাম গিয়ে ৭৭ হাজার ২১৬ টাকায় দাঁড়ায়। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম।

ছয় চিনিকলে আখমাড়াই বন্ধ

লোকসানের বোঝা কমাতে গত ডিসেম্বরে সরকারি ছয় চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন। উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া চিনিকলগুলো হচ্ছে কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর (রংপুর), রংপুর ও সেতাবগঞ্জ (দিনাজপুর) চিনিকল। সব মিলিয়ে করপোরেশনের অধীনে রয়েছে ১৫টি চিনিকল।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন