এখন পর্যন্ত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। আর ২০১৯ সালের তুলনায় এখন ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আছে।
ফিরোজ মোহাম্মদ, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতার ব্র্যান্ড অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ফিরোজ মোহাম্মদ বলেন, এখন পর্যন্ত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। আর ২০১৯ সালের তুলনায় এখন ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আছে। এভাবে বিক্রি হতে থাকলে তাঁদেরও লক্ষ্য পূরণ হবে বলে জানান ফিরোজ মোহাম্মদ।

ঈদে আশানুরূপ বিক্রির কথা জানিয়েছেন নন–ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রেতারাও। বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের জুতার দোকান শু মার্টের ব্যবস্থাপক আলীম সরকার বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছরে যে বিপদ গেছে, সে তুলনায় বিক্রি অনেক ভালো। ক্রেতাদের এ রকম উপস্থিতি থাকলে আশা করছি, বিক্রির লক্ষ্য পূরণ হবে।’

তবে বিক্রি নিয়ে অসন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। যেমন, মিরপুর পাদুকা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন বলেন, এবার যতটা বিক্রি হবে ভেবেছিলাম, এখনো ততটা হয়নি। এদিকে করোনার মধ্যে দোকান চালাতে গিয়ে পাওনাদারদের কাছে অনেক টাকা জমা হয়েছে।

ক্রেতা বাড়ে বিকেল থেকে

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ও স্থানীয় জুতার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। এসব বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সাধারণ সময়ের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তবে সকাল–দুপুরে ঢিলেঢালা ভাব থাকলেও বিকেলে, বিশেষ করে ইফতারির পর থেকে বিক্রি বেড়ে যায়।

অ্যাপেক্সের বসুন্ধরা সিটি বিক্রয়কেন্দ্রের স্টোর ব্যবস্থাপক মো. রুবেল মিয়া বলেন, সাধারণত বিকেলের দিকে বিক্রি বেশি হয়। এরপর আবার সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে।

ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে রোববার বিকেলে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে জুতা কিনতে আসেন ইন্টারনেট সেবার ব্যবসায়ী মো. সোলাইমান। তিনি বলেন, ‘বিকেলে ভিড় কিছুটা কম হবে ভেবে জুতা কিনতে চলে এসেছি। ছেলের জন্য দুই জোড়া জুতা কিনেছি। এখন নিজের জন্যও কিনব।’

করোনার কারণে গত দুই বছরে যে বিপদ গেছে সে তুলনায় বিক্রি অনেক ভালো। ক্রেতাদের এ রকম উপস্থিতি থাকলে আশা করছি, বিক্রির লক্ষ্য পূরণ হবে।
আলীম সরকার, ব্যবস্থাপক, শু মার্ট, বসুন্ধরা সিটি।

১২ হাজার কোটি টাকার বাজার

জুতার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে জুতার বাজারের আকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রি হয় ২৫ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা, আর নন–ব্র্যান্ডের জুতার হিস্যা ৭৫ শতাংশ বা ৯ হাজার কোটি টাকা।

স্থানীয়ভাবে তৈরি জুতার পাশাপাশি পাইকারি বাজারে চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা জুতাও বিক্রি হয়। এসব জুতা খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের মাধ্যমে সারা দেশে চলে যায়। এ ছাড়া অ্যাপেক্স, বাটাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতার একটা অংশও পাইকারি বাজারের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

এসেছে নতুন পণ্য

করোনার কারণে গত দুই বছরে জুতা–বাণিজ্যে গতি ধীর ছিল। তবে বিক্রি বাড়াতে এবার ‘স্বস্তির’ ঈদ উপলক্ষে সব কটি ব্র্যান্ডই নতুন নতুন ডিজাইনের জুতা এনেছে বাজারে। এর মধ্যে অ্যাপেক্স নতুন ডিজাইনের প্রায় দেড় হাজার পণ্য এনেছে বাজারে। আর বাটা ছেড়েছে প্রায় ৮০০ নতুন ডিজাইনের পণ্য। সব নতুন ডিজাইনের জুতার মধ্যে ছেলেদের ৫০ শতাংশ, বাচ্চাদের ১৫-২০ শতাংশ ও বাকিটা মেয়েদের। অন্য ব্র্যান্ডগুলোও কমবেশি নতুন নকশার জুতা এনেছে বাজারে।

ঈদ উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের এবং ছোট কোম্পানিগুলোও বাজারে নতুন নতুন ডিজাইনের অনেক জুতা নিয়ে এসেছে। দেশের সবচেয়ে বড় পাদুকা প্রস্তুতকারক এলাকা হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের ভৈরব। ছোট–বড় মিলিয়ে সেখানে প্রায় চার হাজার জুতার কারখানা আছে। ভৈরব ফুটওয়্যার ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন মিয়া প্রথম আলোকে জানান, রোজার শুরু থেকে তাঁরা সেখানে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লাখ জোড়া জুতা বানাচ্ছেন। তাঁদের এই কার্যক্রম চলবে ২৭ রমজান পর্যন্ত।

জুতার দাম বেড়েছে

বিভিন্ন জুতা কোম্পানি ও বিক্রেতারা জানান, করোনা মহামারি ও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ জন্য এবার জুতার দাম কিছুটা বেড়েছে। বাটা শু জানিয়েছে, এ বছর তাদের জুতার দাম গড়ে ৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। অ্যাপেক্সেরও বেশ কয়েকটি ডিজাইনের জুতার দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ব্র্যান্ডের জুতার পাশাপাশি বেড়েছে নন–ব্র্যান্ড জুতার দামও। ভৈরব ফুটওয়্যার ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন মিয়া জানান, কাঁচামালের দাম বাড়ায় তাঁদের প্রতি জোড়া জুতার দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বেড়েছে। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ার পেছনে স্থানীয় সিন্ডিকেটকেও দায়ী করেছেন তিনি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন