default-image

করোনার টিকা কিনতে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ দেশীয় মুদ্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার মতো (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এই অনুমোদন দেয়।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে কোভিড-১৯ এর টিকা দিতে দেওয়া যাবে। টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ধাপে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থায়ন নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে, ভ্যাকসিন স্টোরেজ সুবিধা সম্প্রসারণ করা এবং দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন বিতরণ করতে সহায়তা করবে।

টিকা কেনার জন্য প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক এই ঋণ সহায়তা দিয়েছে। করোনার টিকা কেনার জন্য বিশ্বব্যাংক ৬০০ কোটি ডলারের যে তহবিল গঠন করে, সেখান থেকে ঋণ পেতে গত অক্টোবর মাসে ৫০ কোটি ডলার চেয়েছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চার মাস ধরে সরকারের আলোচনা চলেছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক টাকা দিতে রাজি হয়েছে। এবার বোর্ডও অনুমোদন দিল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, জাতীয় টিকা কর্মসূচি চালু করে বাংলাদেশ সিওভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত ও ন্যায়সংগত ভ্যাকসিনগুলিতে দ্রুত এবং ন্যায্য সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এই অর্থায়ন এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাৎক্ষণিক টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশকে তার জাতীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, করোনার টিকা কেনার জন্য গত বছরের অক্টোবরে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে মোট ২৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে চিঠি দেয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার, এডিবির কাছে ৫০ কোটি ডলার, জাইকার কাছে ৫০ কোটি ডলার, এআইআইবির কাছে ৫০ কোটি ডলার, জার্মানির কাছে ২৫ কোটি এবং ফ্রান্সের কাছে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়ে আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে ইআরডি। সরকারের চিঠি পাওয়ার পরপরই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন