default-image

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় যে গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল, তা কমে আসছে। সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে দেশে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার ২৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ১৯৬ কোটি ডলার বা ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার বা ১৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা পাঠান।

গত বছরের জুলাই, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই পাঁচ মাসের প্রতিটিতেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় আসে। এর মধ্যে জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৬০ কোটি ডলার।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক দেশে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ে। এটা সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে।

করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পরিস্থিতিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় আসা কমে যায়। তবে বিভিন্ন দেশে প্রণোদনা ও ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় আবার বাড়তে শুরু করে। করোনায় যোগাযোগব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাওয়ার কারণেও বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

বিজ্ঞাপন

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তথা মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮৩ কোটি ডলার বা ৩৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আসা প্রবাসী আয় আগের পুরো অর্থবছরের (২০১৯-২০) ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৪০ কোটি ডলার বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি।

মূলত গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করার পর থেকেই প্রবাসী আয়ে গতি আসতে থাকে। এতে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমে যায়। করোনার মধ্যে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হলেও তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি। বরং প্রায় প্রতি মাসেই আগের রেকর্ড ভাঙছেন প্রবাসীরা। যদিও আবার তাতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের জরিপে উঠে এসেছে, দেশে প্রতিবছর যত প্রবাসী আয় আসে, তার বড় অংশই খরচ হয় বাড়ি করতে ও জমি কেনায়। যেসব পরিবারে প্রবাসী আয় আসে, সেসব পরিবার অন্যান্য পরিবারের চেয়ে বেশি অর্থ জমি কেনা ও বাড়ি তৈরির পেছনে খরচ করে। আবার প্রবাসী আয় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারগুলোর খাবার বাবদ আনুপাতিক খরচও কমতে থাকে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন