default-image

প্রায় ৭৯ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো করোনার আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ভাবছিলেন, এই সংকট কাটাতে গড়ে আরও ১৩ মাস সময় লাগবে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ তাদের আরও গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। এসব প্রান্তিক মানুষ ঋণের জালে পড়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের ‘কীভাবে অতিমারিকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী’ শীর্ষক একটি খানা জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে ভার্চ্যুয়াল উপায়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কোভিড সংকট মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য একটি সামাজিক সংহতি তহবিল গঠনের সুপারিশ করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। এতে তহবিলে সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিপর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১ হাজার ৬০০ খানার ওপর এই জরিপ করা হয়েছে। চর, হাওর, উপকূল, বস্তি, দলিত, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, প্রবাসফেরত, পিছিয়ে পড়া নারী এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইশতিয়াক বারী।

জরিপে উঠে এসেছে যে করোনার আঘাত সামলাতে প্রথমে সঞ্চয় ভেঙেছেন এসব প্রান্তিক মানুষ। এরপর ঋণ করেছেন। তাঁরা ভোগও কমিয়েছেন। প্রথমে খাবারে, পরে গৃহস্থালির খরচ কমিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কীভাবে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী করোনার সময় খরচ কমিয়ে টিকে ছিল, তা জরিপে উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, করোনা সংকটের সময় এই প্রান্তিক শ্রেণির ৮০ শতাংশ পরিবার খাবার কিনতে খরচ কমিয়েছে। আর ৬৪ শতাংশের বেশি খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ কমাতে হয়েছে। আর প্রায় ৬১ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া নিজের গবাদিপশু বিক্রি করে, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, সরকারি সহায়তা, সোনাদানা ও জমি বিক্রি করেও অনেকে জীবন ধারণ করছেন।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চলমান অতিমারি জাতীয়ভাবে যে প্রভাব ফেলেছে, এর বেশি বিপদে ফেলেছে প্রথাগত বিপন্ন গোষ্ঠীকে। এমনকি যাঁরা আগে বিপন্ন ছিলেন না, তাঁরাও সংকটে পড়েছেন। যেমন প্রবাসফেরত মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা। তাই এই বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ২-৩ বছরের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা করতে হবে। সরকারের সম্পদের জোগান দিতে একটি সামাজিক সংহতি তহবিল তৈরির সুপারিশ করেছেন তিনি। এতে সরকারের পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা উচিত বলে মনে করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ দেন। এই ধরনের তহবিলে কে কত টাকা দিচ্ছে, কোথায় কত খরচ হচ্ছে, তা মুহূর্তেই হালনাগাদের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশও করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে। তাদের সুরক্ষা দিতে হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন