বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা শহরজুড়ে প্রায় ৩৫০ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আছেন। করোনার কারণে তাঁদের বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে বলে জানা গেছে। আবার সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সোনা জামানত রেখে নগদ টাকা বন্ধকের ব্যবসায় নেমেছেন। করোনার কারণে স্বর্ণশিল্পীরা পেশা পরিবর্তন করেছেন। করোনার আগে ১৫ হাজারের বেশি স্বর্ণশিল্পী ছিলেন। এখন তা ১০ হাজারে নেমেছে। তাঁদের কেউ কেউ এখন অটোরিকশা চালান বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার প্রবীণ ব্যবসায়ী শাহ আলমগীর খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামানত দেওয়ার সক্ষমতা না থাকায় ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ পান না। কারণ, ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, তাঁরা ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন না।’

খরচেও পোষাচ্ছে না

ছোট ব্যবসায়ীদের অন্যতম সমস্যা হলো লাইসেন্স নেওয়া ও নবায়নের খরচ বৃদ্ধি। বর্তমানে একজন ব্যবসায়ীকে তিন-চার ধরনের লাইসেন্স নিতে হয়। যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট লাইসেন্স, ডিলিং লাইসেন্স ইত্যাদি। এক দশক আগে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হওয়ার পর একলাফে এসব লাইসেন্স খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হলেই এসব লাইসেন্স করা যেত। এখন ৮-১০ হাজার টাকা লাগে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের সংগৃহীত তহবিল বা এল আর ফান্ডে টাকা না দিলে অনেক কাজই হয় না।

লাইসেন্স নবায়ন, ডিলিং লাইসেন্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও শুল্ক-ভ্যাটের চাপে ছোট ব্যবসায়ীরা রীতিমতো পিষ্ট হচ্ছেন। ক্রেতারা ভ্যাট দিতে চান না। তাই শতভাগ ভ্যাট আদায় হয় না। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট কর্মকর্তারা অনেক সময় চাপ সৃষ্টি করেন। এই করোনার সময়ে দেড় বছর ধরে ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য তেমন একটা নেই। তাই লাইসেন্স নবায়নসহ আনুষঙ্গিক খরচ জোগাতে অনেক ব্যবসায়ী হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা চান, নবায়ন ফি মওকুফ করে দেওয়া হোক।

স্থলবন্দর আছে, রপ্তানি কম

কুমিল্লা শহরের সীমান্তবর্তী বিবিরবাজার স্থলবন্দরের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। স্থলবন্দরের বড় বড় পণ্যবোঝাই ট্রাক যাওয়ার মতো সড়ক নেই। বাইপাস সড়ক থাকলেও তা বেশ সরু। অথচ এই স্থলবন্দর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। এ ছাড়া বিবিরবাজার স্থলবন্দরটি রপ্তানিনির্ভর হলেও রপ্তানি পণ্যের তালিকা বেশ ছোট। পাথর, সিমেন্ট ও খাদ্যপণ্য—এই তিন পণ্যই বেশি রপ্তানি হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লার ব্যবসায়ী জহিরুল হক বলেন, স্থলবন্দরের ওপারে আগরতলার মেলাঘর এলাকা। সেখানে তেমন একটা পণ্যের চাহিদা নেই। এ ছাড়া আখাউড়া স্থলবন্দরটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা শহরের পাশেই। তাই ব্যবসায়ীরা ওই স্থলবন্দর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন