বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এনবিআর বলছে, কর অবকাশ সুবিধার মেয়াদ হবে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। এনবিআর মনে করছে, করোনার সময় কর ছাড়ে নতুন বিনিয়োগের এই সুযোগ কর্মসংস্থানে গতি আনতে পারে।

আগামী বাজেটে কৃষি খাতের কর সুবিধা আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। নতুন করে কর অবকাশের সুবিধায় আসছে আরও পাঁচটি খাত। এগুলো হলো কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ উৎপাদন, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও খামার যন্ত্রপাতি উৎপাদন। এসব খাতে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, তারা আগামী ১০ বছর কর অবকাশ সুবিধা পাবে। প্রথম বছর থেকে দশম বছর পর্যন্ত ১০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার কর সহায়তা দিলে ওই খাতটি দাঁড়িয়ে যায়। এর আগে পোলট্রি ও মৎস্য খাতেও কর সুবিধা দেওয়ায় উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর অবকাশ সুবিধা দিলে নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন। যাঁদের অলস টাকা পড়ে আছে, তাঁরা বিনিয়োগ করবেন। এতে সার্বিকভাবে কর্মসংস্থান হবে। বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী বাড়লে কেউ এককভাবে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের বাজারের আকার প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের জোগান দেয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়।

কর অবকাশ সুবিধা দিলে নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন। যাঁদের অলস টাকা পড়ে আছে, তাঁরা বিনিয়োগ করবেন। এতে সার্বিকভাবে কর্মসংস্থান হবে।
কামরুজ্জামান কামাল পরিচালক (বিপণন), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

বর্তমানে ২৬টি শিল্প খাত কর অবকাশ সুবিধা পায়। এই তালিকায় আছে কৃষি যন্ত্রপাতি, অটোমেটিক ইট, অটোমোবাইল, বাইসাইকেল, আসবাব, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, এলইডি টিভি, খেলনা, মোবাইল ফোন, ওষুধ, টায়ার, বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি। এসব খাতের উদ্যোক্তারা ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে বিনিয়োগ করলে ১০ বছর পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা পাবেন।

এবার গৃহস্থালির কাজে লাগে এমন ইলেকট্রনিক পণ্যও কর অবকাশের সুবিধায় আনা হতে পারে। এই তালিকায় আছে এসি, ফ্রিজ, টিভি, ওয়াশিং মেশিন, বৈদ্যুতিক সেলাই মেশিন প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে এনবিআর শর্ত দিতে পারে, এসব পণ্য বানাতে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন করতে হবে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন করে পাঁচটি সেবা কর অব্যাহতির সুবিধায় আসছে। এগুলো হলো ক্লাউড সার্ভিস, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, ই-বুক পাবলিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস এবং ফ্রিল্যান্স। এসব সেবা যেসব প্রতিষ্ঠান দেবে, তারা কর অব্যাহতি সুবিধা পেতে পারে।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন ধরনের সেবা কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে। এর মধ্যে আছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন কাস্টমাইজেশন, ডিজিটাল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল অ্যানিমেশন ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ওয়েবসাইট সার্ভিস, ওভারসিজ মেডিকেল ট্রান্সমিশন সার্ভিস, কল সেন্টার সার্ভিস প্রভৃতি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) হিসাবে, দেশে ৯০০ প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার তৈরি করে। এর মধ্যে আড়াই শ সফটওয়্যার কোম্পানি বিদেশে সেবা রপ্তানি করে থাকে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন