বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এ পথের লেগুনাচালকদের সঙ্গে কথা বলতে আমরা গিয়েছিলাম ফার্মগেট ও নিউমার্কেট এলাকায়। সেখানে দেখা যায়, ফার্মগেট থেকে নিউমার্কেটগামী সড়কের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো লেগুনা পড়ে থাকলেও কোনো চালকেরই দেখা মিলছিল না। লেগুনাগুলোতে ভবঘুরে লোকজনকে শুয়ে–বসে থাকতে কিংবা পথচারীদের বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। ফার্মগেট এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে একজন চালক এলেন। একটি লেগুনার দরজা খুলে ভেতরে বসলেন, আবার কিছুক্ষণ পর নেমে পড়লেন। এ সময়ই আল আমিন নামের এই চালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

কেমন আছেন ভাই? এই প্রশ্নের জবাবে লেগুনাচালক আল আমিন বলেন, ‘দিন চলে যাচ্ছে।’ অন্য লেগুনাচালকেরা কোথায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ বাড়ি চলে গেছে। কেউ অ্যাম্বুলেন্সের সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, কেউবা রিকশা চালানো শুরু করেছেন। আবার কেউ খেয়ে না খেয়ে আছেন।’

আপনার অবস্থা কী জিজ্ঞেস করতেই উত্তরে আল আমিন বলেন, ‘আমি কোনোমতে দিন পার করছি। বাবার আয় আছে, তা দিয়েই চলে যাচ্ছে। নিজের কোনো আয় নেই। এভাবে আর কত দিন চলে। কেউ তো কোনো সাহায্য নিয়ে আগায় আসল না।’

আল আমিন বলেন, ‘করোনা এসেছে আমাদের পেটে লাথি দিতে। রিকশা চলে, কিন্তু আমাদের লেগুনা বন্ধ। স্কুল-কলেজ বন্ধের পর থেকে আমাদের আয় কমে গেছে। আর নিউমার্কেট চালু থাকলে তখনো কিছু যাত্রী পাওয়া যায়। কিন্তু সেটি বন্ধ থাকলে যাত্রী পাওয়া যায় না। কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহনই বন্ধ করে রেখেছিল সরকার। তাতে আমাদের পেটের ভাত জোটে না। এভাবে চললে সামনে কীভাবে চলব, জানি না। গাড়ি বন্ধ হলে আমরা কেমনে দিন পার করি, কীভাবে টিকে থাকি আমাদের সেই খবর নিতে কেউ আসে না।’

আল আমিন কিছু উপার্জনের আশায় বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। চার বছর ধরে রাজধানীতে লেগুনা চালান। সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে সারা দিন লেগুনার আশপাশেই সময় কাটে। অন্য চালকেরা এলে তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সময় কাটান। এভাবেই অলস সময় কাটান আল আমিন। অন্য চালকদের অবস্থাও তাঁর মতো।

সরকার আজ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছে। তাতে হয়তো কয়েক দিন আবারও চলার সুযোগ পাবে এসব লেগুনা। কিন্তু ঈদের পর আবার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হলে আবারও বন্ধ হয়ে যাবে চাকা। আল আমিনের দুশ্চিন্তা যেন কিছুতেই কাটে না। সামনের দিনগুলো তাঁর জন্য কেবলই অশ্চিয়তার।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন