default-image

গাড়ির চাকার সঙ্গে জীবন–জীবিকা বাঁধা পঞ্চাশোর্ধ্ব পরিবহনশ্রমিক আমিনুর ইসলামের। জীবনের তিন দশক কেটে গেছে গাড়িতেই। গাড়ির চাকা ঘুরলে তাঁর জীবিকাও সচল থাকে, গাড়ির চাকা থেমে গেলে থেমে যায় তাঁর জীবিকার চাকাও।

করোনার বেড়ে যাওয়া সংক্রমণ ঠেকাতে গত সোমবার থেকে মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ। গাড়ি চাকার সঙ্গে চার দিন ধরে থেমে গেছে চালক আমিনুর ইসলামের জীবিকাও। প্রতিদিনের রোজগারেই সংসার চলত তাঁর। আর এখন দিন কাটছে প্রচণ্ড অর্থকষ্টে। বগুড়ার চারমাথা থেকে পাবনার নগরবাড়ি পথে চলাচলকারী ‘শাকিল এন্টারপ্রাইজ’ বাসের চালক তিনি। গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা হয় শহরের এডওয়ার্ড পার্ক সড়কে গাড়ির সামনেই।

আমিনুর ইসলাম বলেন, গত বছরও করোনার কারণে এ সময়টাতে একটানা প্রায় চার মাস গাড়ি বন্ধ ছিল। তাতে সংসার চালাতে হয় ধারদেনা করে। এখনো ধারের টাকা শোধ হয়নি। এর মধ্যে বাকি পড়েছে বাসার গ্যাস-বিদ্যুতের বিল। গত সোমবার থেকে আবারও থেমে আছে জীবিকার চাকা। তিনি আরও বলেন, ‘গাড়ি চললে দিন শেষে ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতাম। এখন বাড়িতে বসে অলস সময় কাটছে। সঙ্গে নানা দুশ্চিন্তা। কীভাবে সংসার চলবে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ চলবে?’

বিজ্ঞাপন

আমিনুর ইসলামের পরিবার তিন সদস্যের। চাল, ডাল, নুন, তেল, তরিতরকারি কিনতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে আছে গ্যাস-বিদ্যুতের বিল। তিনি বলেন, ‘সামনে রোজা ও ঈদ আসছে। হাতে হাজার দু-এক টাকা জমানো ছিল, চার দিন ধরে সেই টাকায় চলছি। যদি আরও কিছুদিন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে, তাহলে মানুষের কাছে হাত পাততে হবে। কিন্তু হাত পেতে কত দিন চলতে পারব?’

গাড়িচালক আমিনুর আক্ষেপ করে বলেন, সবকিছুই প্রায় স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। দোকানপাটও খুলে দিয়েছে সরকার। বড় শহরেও গাড়িঘোড়া চলছে। যত দোষ শুধু মহাসড়কের বড় গাড়ির। অথচ রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক—সবকিছুই চলছে। আমিনুরের প্রশ্ন, করোনা কী বাস থেকে ছড়ায়?

এই পরিবহনশ্রমিক বলেন, গত বছর সরকার গরিব মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী সবাইকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। শুনেছি, লাখ কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে সরকার। অথচ কারও কাছ থেকে পরিবহনশ্রমিকেরা প্রণোদনার একটি টাকাও পাননি। অথচ অন্য সবার মতো পরিবহনশ্রমিকদেরও জীবনের কোনো খরচই থেমে নেই।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন