বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল ‘ডিজিটাল কমার্স ব্যবসায় সাম্প্রতিক সমস্যা বিষয়ে পর্যালোচনা’ শীর্ষক বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিয়ে। বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাণিজ্যসচিব আর প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় অন্য মন্ত্রীরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাণিজ্যসচিব জানান, যে ঘটনা ঘটে গেছে তা তো গেছেই, ভবিষ্যতে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। গত ৪ জুলাই ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে ই–কমার্স খাত শৃঙ্খলায় ফিরছে। অনিয়মগুলো তার আগের। সচিব বলেন, বৈঠকে অনেকে ই–কমার্স ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও সুপারিশ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানের কারণে পুরো ই–কমার্স খাত বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না।

বাণিজ্যসচিব বলেন, পুরো ই–কমার্স খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন, ডিজিটাল কমার্স আইন প্রণয়ন কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করার সুপারিশ এসেছে বৈঠক থেকে। এ ছাড়া সবাইকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বর নেওয়া, শাস্তি দেওয়ার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সামান্য সংশোধন করারও সুপারিশ এসেছে। আইন সংশোধনে একটু সময় লাগবে। অন্যগুলোর ব্যাপারে কাল (আজ) থেকেই কাজ শুরু করা হবে।

প্রশ্নোত্তরপর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছে প্রশ্ন ছিল, কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ করা হবে এবং করেই বা লাভ হবে কী। ডেসটিনি ও যুবকের গ্রাহকেরাও তো ক্ষতিপূরণ পাননি। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডেসটিনি, যুবকের গ্রাহকদের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাদের ভালো সম্পদ ছিল, দিনে দিনে যেগুলোর দাম বেড়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পদগুলো বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা আইন মন্ত্রণালয় দেখবে।

টিপু মুনশি বলেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এখন জেলে। ধামাকার কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটাও ঠিক যে করোনার এই সময়ে হাজার হাজার ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা টিকেও আছে। তাদের চলতে দিতে হবে। যারা প্রতারণা করেছে বরং তাদের শাস্তির মাত্রাটা বাড়াতে হবে।
প্রতারণা–সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারাটি এত দুর্বল যে জেলেও তাঁদের বেশি দিন রাখা যাবে না, এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইভ্যালি বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা (স্পনসরশিপ) করে অনেক টাকা অপচয় করেছে। চেষ্টা করব গ্রাহকেরা যাতে প্রতারণার শিকার না হন।’

এদিকে, ক্রয় কমিটির বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের মানুষকে ঠকানো এখন ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে। আগে হাতে–কলমে (ম্যানুয়ালি) ঠকাত, এখন ঠকাচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সরকারকে এগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। তবে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায় তো আছেই। দায় আছে বলেই বৈঠক করছি। দায় এড়াতে চাচ্ছিও না। তবে একটা ঘটনা ঘটে গেছে বলেই যে সব নষ্ট হয়ে যাবে তা নয়। হাজার হাজার লোক ই-কমার্সের ওপর বেঁচে আছে। তাদের তো আমরা ডোবাতে পারব না।’

কোভিডের কারণে পরিচালনা নির্দেশিকা করতে একটু দেরি হয়েছে স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইভ্যালির কথা যদি বলি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে এর বিরুদ্ধে ৪ হাজার ৯৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এ সংখ্যা ৪ শতাংশের মতো যা বড় কিছু নয়।’

ইভ্যালির কাছে যাঁরা টাকা পান, তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। দেখব তাদের কী সম্পদ আছে এবং তা দিয়ে কতটুকু সমন্বয় করা যায়। তাঁকে জেলে ভরে রাখলে তো গ্রাহক কিছু পাবে না।’

ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল মুক্তি পাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি তাঁর কাছে গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার মতো কোনো টাকা না থাকে, তাহলে তাঁকে মুক্তি দিয়ে মুক্ত বাতাসে ঘুরতে দিয়ে কী লাভ। যদি দেখা যায় তাঁর সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়া যাবে, তাহলে মুক্তির বিষয়টি আইন বিবেচনা করবে।

কোম্পানি আইন নিয়ে কাজ করা আইনজীবী তানজীব উল আলম সামগ্রিক বিষয় নিয়ে গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ব্যবস্থাপনা নেই। প্রতারিত গ্রাহকদের বোকামির দায় তাঁদেরই নিতে হবে। আর ই–কমার্সের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার বিধানই নেই। সরকারের দায় যেটা আছে, যথাসময়ে বিধিবিধান তৈরি করতে পারেনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইভ্যালির ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যখন সাতটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছিল, সে অনুযায়ী সংস্থাগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিলে মানুষ প্রতারণার শিকার কম হতো। এ ব্যাপারে সংস্থাগুলোর দায় রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এক মাসের চেয়ে আরও বেশি সময়ের জন্য ইভ্যালির হিসাব স্থগিত রাখতে পারত।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন