default-image

খুলনার প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে বন্ধ বেশ কিছু দোকান। সেগুলোর সামনে সিমেন্টের বেঞ্চে বসে আলাপে ব্যস্ত জনা দশেক নারী-পুরুষ। তাঁরা সবাই একসময় ওই মিলের শ্রমিক ছিলেন। কেউ স্থায়ী, কেউবা বদলি। চাকরি না থাকলেও প্রতিদিনই মিলগেটে জড়ো হন কিছু শ্রমিক। এসব শ্রমিক থেকে একটু দূরে এক বেঞ্চে বসে কথা বলছিলেন দুজন। তাঁদের চেহারাতেও বিষণ্নতার ছাপ।

তাঁদের মধ্যে একজন বশির খান। কাজ করতেন প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের সুতা বিভাগে। সরকারি সিদ্ধান্তে অন্য শ্রমিকদের মতো তিনিও স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বাধ্য হন। অবসরের পর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা পেয়েছেন। সমপরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র এখনো হাতে পাননি। নগদ টাকা শেষ হয়ে গেছে, দিন দিন বাড়ছে দেনা। একদিকে বর্তমান নিয়ে হতাশা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের ভাবনায় চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বশির খান। এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে হাজির হয়েছে সরকারি বিধিনিষেধ।

বিজ্ঞাপন

আলাপকালে বশির বলেন, মিল যখন চালু ছিল, নিজের আয় দিয়েই সংসার চলত। কারও কাছে হাত পাততে হয়নি। নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে থাকা মায়ের জন্য টাকাও পাঠিয়েছেন। এখন সবকিছু বদলে গেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে কোনোমতে চলছে সংসার। বশিরের প্রশ্ন, ‘এভাবে কত দিন?’

বশির আরও বলেন, ‘চাকরি চলে যাওয়ার পর বিভিন্ন চালকল, ময়দার মিল, বেকারিসহ অনেক জায়গায় কাজের চেষ্টা করেছি। যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই করোনার অজুহাত, কোথাও লোক নিচ্ছে না। আবার অন্য কোনো শহরে গিয়ে যে কাজ পাব, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। লেখাপড়াও জানি না। আগের মতো গায়েও শক্তি নেই, ভারী শ্রমের কাজও পারব না।’ গ্রামেও জমিজমা নেই, তাই সেখানে গিয়েও কোনো লাভ হবে না।

আলাপে আলাপে বশির খান জানান, চাকরি চলে যাওয়ার পর সরকারের কাছ থেকে যে টাকা পেয়েছেন, তার একটি অংশ দিয়ে ঋণ শোধ করেছেন। আর কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছেন ভ্রাম্যমাণ একটি ফলের দোকানে, তা–ও শেয়ারে। ফলের দোকানে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছিল, তাতেই দিন চলে যেত। সরকার বিধিনিষেধ ঘোষণা করার পর সেই দোকান প্রশাসনের লোকেরা উঠিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে তাই দোকানের শেয়ারের টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। এখন বেকার। বশির খান বলেন, ভাগ্যটাই খারাপ। চাকরি গেল, করোনা এসে অন্য চাকরির সুযোগটাও কমিয়ে দিল। আর টিকে থাকার শেষ ভরসা ফলের দোকানটি বন্ধ হলো করোনায়।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন