বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল দ্রুত হাতে পেতে ও রপ্তানি পণ্য জাহাজে তুলে দেওয়া নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের। ঠিক এ সময়ে বন্দরের এক-দুটি জেটি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে চাল খালাসের জন্য। আবার নানা কারণে জাহাজ থেকে চাল দ্রুত খালাসও করা যাচ্ছে না। তাতে জেটিতে ভেড়ানোর জন্য গভীর সাগরে অপেক্ষায় রয়েছে ১০-১৫টি জাহাজ।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জেটিতে চালের জাহাজ থেকে চাল খালাসে দীর্ঘ সময় লাগায় বন্দরে শিল্পের কাঁচামালবাহী অনেক জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো যাচ্ছে না।
তাই বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, এ সময়ে চালের জাহাজ যদি খাদ্য বিভাগের নিজস্ব বা বেসরকারি জেটিতে খালাস করা হতো, তাহলে আমদানি পণ্য বোঝাই জাহাজ দ্রুত খালাস করা যেত। এ ছাড়া মোংলা বন্দর দিয়েও চালবোঝাই জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগের পরিচালক মো. এনামুল করিম বলেন, বন্দরের বিধিতে খাদ্যশস্যবাহী অন্তত একটি জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা আছে। এটা ঠিক, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সমুদ্রপথে আনা সরকারি চালের ৪০ শতাংশ মোংলায় খালাস করা হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমে যেত।

চট্টগ্রামমুখী চালের জাহাজ

সরকারি খাদ্যশস্য ও সার আমদানির ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দরে খালাসের বাধ্যবাধকতা আছে। চট্টগ্রামে জাহাজের চাপ বেশি থাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে খাদ্য বিভাগ ও শিল্প মন্ত্রণালয়কে জানায়, সরকারিভাবে আমদানি করা খাদ্যশস্য ও সার মোংলা বন্দরে খালাস করা হলে সেটি আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের হবে। এরপরও খাদ্যশস্য আমদানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকেই বেছে নিচ্ছে খাদ্য বিভাগ।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ৫১টি জাহাজ থেকে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল খালাস করা হয়েছে। বন্দরের জেটিতে প্রায়ই এক থেকে দুটি জাহাজ থেকে নিয়মিত চাল খালাস হচ্ছে। এ সময়ে মোংলায় খুব কমই হয়েছে চাল খালাস। মোংলা বন্দরে জাহাজের মাসভিত্তিক অবস্থান সূচিতে এক-দুটির বেশি চালবাহী জাহাজ দেখা যায়নি। অথচ চট্টগ্রামমুখী চালবাহী জাহাজ আসছে নিয়মিত। আসার পথে আছে আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ।

জানতে চাইলে মোংলা বন্দরের পরিবহন বিভাগের পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, মোংলা বন্দর দিয়ে চাল আমদানি ও খালাসের বিষয়টি নির্ভর করে খাদ্য বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর।

চাল খালাসে সর্বোচ্চ সময়

বন্দরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে চালবাহী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রতিদিন গড়ে খালাস হয়েছে ২ হাজার ২৩২ টন করে চাল। একই সময়ে ইস্পাত পণ্যবাহী জাহাজ থেকে দিনে ৫ হাজার ৮৯৮ টন এবং সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২ হাজার ৮৫২ টন করে পণ্য খালাস হয়েছে।

সরকারি আমদানির জাহাজ থেকে চাল খালাসে বেশি সময় লাগার অনেকগুলো কারণের কথা বলছেন পণ্য খালাসকারী বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তার মধ্যে রয়েছে জাহাজ থেকে চাল খালাস করে ট্রাকে নেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে ট্রাক না আসা, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ায় খালাস বন্ধ রাখার মতো ঘটনা।

আমদানি-রপ্তানিকারকদের আক্ষেপ

আমদানি-রপ্তানি বাড়লেও দেশে ২০০৭ সালের পর দেশে সমুদ্রগামী জেটি তৈরি হয়নি। সীমিতসংখ্যক জেটি দিয়েই বাড়তি আমদানি-রপ্তানি পণ্য সামাল দিচ্ছে বন্দর। জট বিবেচনা করে কখনো কনটেইনার জাহাজ বেশি ভেড়ানো হয়, কখনো–বা সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে গড়ে প্রতিটি জাহাজ তিন দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। চালের জাহাজ যদি বন্দরের মূল জেটিতে ভেড়ানো না হতো, তাহলে এসব জাহাজকে বড়জোর এক দিন অপেক্ষা করতে হতো।
বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, এ সময়ে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ও তৈরি পণ্য রপ্তানি। খাদ্যশস্য বা অন্য পণ্য মূল জেটির বাইরে আলাদা ব্যবস্থায় খালাস করার ব্যবস্থা করা দরকার।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন