default-image

সরকারের কাছ থেকে চাল আমদানির অনুমতি পেলেও তা কাজে লাগাতে পারছেন না নীলফামারীর ব্যবসায়ীরা। সময়ের স্বল্পতার কারণে এলসি খুলে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে জানান তাঁরা।

নীলফামারীর ব্যবসায়ীরা জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় গত ১৩ জানুয়ারি বেসরকারি পর্যায়ে দেশের ৪৪ জন আমদানিকারককে ১ লাখ ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। সে অনুযায়ী তাঁরা উদ্যোগী হন। কিন্তু স্থলবন্দরে যানজট থাকায় এবং এলসি খোলার সময়সীমা কম হওয়ায় তাঁরা চাল আমদানিতে এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সে জন্য আমদানিকারকেরা ব্যাংকে এলসি খোলার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

নীলফামারী শহরের অরুণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অরুণ সিংহ রায় প্রথম আলোকে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে এক হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি পায়। এর বিপরীতে ২২০ মেট্রিক টন চালের জন্য ২৮ জানুয়ারি এলসি খোলেন। প্রথম দফায় ১৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানির পর দ্বিতীয় দফায় ২ ফেব্রুয়ারি ৬০ টন চাল ছাড় করতে গেলে তা দিতে বাংলাবান্ধা কাস্টমস অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি কাস্টমস বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র চায়। এই অবস্থায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের অনুরোধে কাস্টমস চালের ছাড়পত্র দিলেও বিল অব এন্ট্রির ছাড়পত্র দেয়নি। ১১ ফেব্রুয়ারি অরুণ এন্টারপ্রাইজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়ার পর কাস্টমস বিল অব এন্ট্রি দেয়।

অরুণ সিংহ রায় বলেন, ‘বাকি চাল আমদানির জন্য আমি ১৬ ফেব্রুয়ারি এলসি খুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সময়সীমা অতিক্রমের কথা বলে নতুন করে এলসি খুলতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই আমি আর বাকি ৭৮০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে পারছি না। এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়ালে বাকি চাল আমদানিতে কোনো বাধা থাকবে না।’

নীলফামারীর আরেক আমদানিকারক আশুতোষ রায় বলেন, ‘আমার রায় এন্টারপ্রাইজের নামে এক হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। আমি ১১ ফেব্রুয়ারি ১০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির এলসি খুলি। কিন্তু ভারতের ফুলবাড়ীতে যানজটের কারণে অদ্যাবধি ওই চাল আনতে পারছি না। সময়ের স্বল্পতার কারণে নতুন করে এলসিও খোলা যাচ্ছে না। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

আশুতোষ রায় আরও বলেন, এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলসি খোলার সময়সীমা বৃদ্ধি করলে চাল আমদানিতে বাধা থাকবে না। এর ফলে চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘যাঁরা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এলসি খুলে চাল এনেছেন, তাঁদের ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আর যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে কোনো এলসি খোলেননি, তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। তাঁদের নামে দেওয়া বরাদ্দের চাল আমরা অন্য ব্যবসায়ীর মাধ্যমে আমদানি করব।’

তবে নাজমুল হক ভূঁইয়া এ–ও বলেন, ‘যাঁদের আমদানি অনুমতির সমস্যা হচ্ছে তাঁদের বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন