default-image

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে চার দিন দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল শুক্রবার থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলার অনুমতি দেয় সরকার। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা করতে চান ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি দোকানপাট, যানবাহন—সবই বন্ধ থাকতে পারে। শুল্ক-কর কার্যালয়গুলো খোলা থাকবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, বৈশাখ-রোজার বেচাকেনা—এসবের মধ্যেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি আদেশ চিন্তায় ফেলেছে ব্যবসায়ীদের। এনবিআর বলেছে, নিয়ম অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে মার্চ মাসের বেচাকেনার হিসাব জানিয়ে দেশের সব ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ কমিশনারেটে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে, অন্যথায় আইন অনুযায়ী জরিমানা ও সুদ আরোপ হবে।

বিজ্ঞাপন
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমায় ছাড় নেই। ১৫ এপ্রিল বা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিটার্ন দিতেই হবে। অন্যথায় সুদ ও জরিমানা।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে একটি নতুন আদেশ জারি হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ভ্যাট আইনের মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার বিধি ৪৭ অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদের (প্রতি ইংরেজি মাস) বেচাকেনার বিপরীতে ভ্যাটের রিটার্ন পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমার বাধ্যবাধকতা আছে। অন্যথায় জরিমানা ও সুদ আরোপের বিধান আছে। তাই ভ্যাটদাতারা যাতে সহজেই রিটার্ন দিতে পারেন, সে জন্য সব ভ্যাট কার্যালয় খোলা থাকবে।

এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ভ্যাট কার্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যাতে ভ্যাটদাতারা রিটার্ন জমা দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিশনার নিজে তদারক করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ভ্যাট রিটার্ন না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্ধারিত ভ্যাটের টাকার ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। এ ছাড়া লকডাউনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এমন অবস্থায় রিটার্ন দেওয়ার সময় বাড়াতেই হবে। আর সুদ, জরিমানাও মওকুফ করতে হবে। এনবিআরকে দেশের ব্যবসায়ীদের অবস্থা বুঝতে হবে।

এই করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। এ ছাড়া লকডাউনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এমন অবস্থায় রিটার্ন দেওয়ার সময় বাড়াতেই হবে।
মো. হেলাল উদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি

কিন্তু ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা দূর করার সুযোগও আছে। করোনার কারণে গত বছরের মে মাসে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ভ্যাট আইনে যা-ই থাকুক না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি ও দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের কারণে জনস্বার্থে এমন আপৎকালীন সময়ের জন্য সুদ ও জরিমানা আদায় হতে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে এনবিআর। গত বছর এই অধ্যাদেশ জারি করে সুদ ও জরিমানা মওকুফ করেছিল এনবিআর।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৬টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭১টি প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসের হিসাব-নিকাশ দিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেছে।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন