বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী বহির্নোঙরে বর্তমানে ৬২টি বড় জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে সিমেন্টের কাঁচামাল, অপরিশোধিত চিনি, গম, সার, পাথরসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য নিয়ে এসেছে। জাহাজগুলোতে খালাসের অপেক্ষায় আছে ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টন পণ্য। গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পণ্য খালাস হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টন। আমদানিকারকেরা জানান, চাহিদামতো ছোট জাহাজ পেলে বড় জাহাজগুলো থেকে চার লাখ টনের মতো পণ্য খালাস হওয়ার কথা। গতকাল ২ লাখ ৭৩ হাজার টন পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজের চাহিদা ছিল। তবে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কাছে যেসব জাহাজ খালি আছে, সেগুলোর পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা দেড় লাখ টনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন চাহিদার বিপরীতে কমপক্ষে ৭৩ হাজার টন পণ্য খালাস নেওয়া যাচ্ছে না।

লাইটার জাহাজের সংকট নেই। প্রতিদিন গড়ে ৯০টির বেশি জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
মাহবুব রশীদ, নির্বাহী পরিচালক, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল

বন্দরের তালিকায় যায়, আকিজ গ্রুপের তিনটি জাহাজ থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল খালাস হচ্ছে। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানান, নিজস্ব জাহাজের পাশাপাশি ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল থেকে তাঁরা জাহাজ ভাড়া নিচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় বড় জাহাজ থেকে দ্রুত সিমেন্টের কাঁচামাল খালাস করা যাচ্ছে না।

আরও কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আকিজ গ্রুপের মতো একই অভিযোগ করেন। চাহিদা অনুযায়ী লাইটার জাহাজ না পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, পণ্য আমদানি ১৫ শতাংশ বাড়ায় এখন চাহিদানুযায়ী লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দিতে পারছে না ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল। যদি এর চেয়ে বেশি বাড়ে, তাহলে আরও বড় সংকটে পড়তে হবে। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের আকার অনুযায়ী এখনো লাইটার জাহাজের সংখ্যা কম। ঠিক এমন সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যে ঠিক নয়, তা লাইটার জাহাজসংকটে স্পষ্ট হয়েছে।

সংকটের বিষয়ে জানতে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে বেসরকারি এই সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, লাইটার জাহাজের সংকট নেই। প্রতিদিন গড়ে ৯০টির বেশি জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

করোনা সংকট কাটিয়ে সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি বাড়ছে। বন্দরের হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) এই বন্দর দিয়ে ৭ কোটি ৩৩ লাখ টন পণ্য খালাস হয়। এবার একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৪২ লাখ টন। পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লাইটার জাহাজের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এতে সংকটও বাড়ছে দিন দিন।

এক দশক ধরে অনেক সময়ই ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল আমদানিকারকদের চাহিদানুযায়ী জাহাজ বরাদ্দ দিতে পারত না। সে জন্য বিভিন্ন শিল্পোদ্যোক্তা ও আমদানিকারকেরা লাইটার জাহাজে বিনিয়োগ করেন। আবার অনেকে তুলনামূলক কম ভাড়ায় সরাসরি বিভিন্ন লাইটার জাহাজের মালিকদের কাছ থেকে জাহাজ ভাড়া নেন। কয়েক বছরে অবশ্য পণ্য আমদানি কম থাকায় সংকট ততটা তীব্র হয়নি।

গত ২৩ আগস্ট নৌপরিবহন অধিদপ্তর এক নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় বড় জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য নৌপথে পরিবহনের জন্য ২০১৩ সালের নীতিমালা অনুসরণ করার কথা বলা হয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ আমদানিকারকদের ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল থেকে জাহাজ ভাড়া নিয়ে পণ্য পরিবহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার সিমেন্ট কারখানার উদ্যোক্তাদের আমদানি পণ্যের ৫০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল থেকে জাহাজ ভাড়া নেওয়ার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের পরই লাইটার জাহাজের সংকট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মো. মনজুরুল কবীর প্রথম আলোকে জানান, চাহিদা অনুযায়ী লাইটার জাহাজ সরবরাহে সংকটের বিষয়টি তাঁরা তদারকি করে ব্যবস্থা নেবেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন