বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে সেখানে সাবস্টেশনসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কাজটি করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। আর গ্যাসলাইন দেবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। তবে এর আগে বিদ্যমান গ্যাসলাইনটি সরিয়ে ফেলতে তিতাস গ্যাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, ১৬০ একর জায়গা কারখানা স্থাপনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এখন বাকি আছে অনসাইট বা ভেতরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। এর মধ্যে আছে জলাধার সংরক্ষণ, পয়োনিষ্কাশন নালা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) ও পানির লাইন নির্মাণ। এসব কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাপানি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশন চাইলে আগামী বছর প্লট বরাদ্দ শুরু করতে পারবে।

বেজার তথ্য বলছে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে মোট এক হাজার একর জায়গার ওপর। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ শেষ। তার মধ্য থেকে ১৬০ একর জায়গা কারখানা স্থাপনের উপযোগী করা হয়েছে। ১৫ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদী থেকে পাইপলাইনে বালু এনে সেখানে ভূমি উন্নয়ন করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠান তোয়া করপোরেশন। ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস কিংবা বন্যা থেকে রক্ষায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সমতল থেকে আট মিটার উঁচু করা হয়েছে।
‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ করা হয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে আড়াই বছর আগে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। এর আওতায় ভূমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে তোয়া করপোরেশন।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক সালেহ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে অনেক জাপানি কোম্পানি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। মোট এক হাজার একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর মধ্যে ১৬০ একর জায়গা কারখানা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তোয়া করপোরেশন প্রস্তুতকৃত জমি হস্তান্তর করেছে। বেজার পক্ষ থেকে এই জমি আগামী সপ্তাহে ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি থাকবে গাড়ি তৈরির কারখানা। পাশাপাশি সেখানে গাড়ির যন্ত্রপাতি সংযোজন, মোটরসাইকেল, মোবাইল হ্যান্ডসেটসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য এবং যন্ত্রপাতিও তৈরি হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের টয়োটা, মিতসুবিশি, সুমিতোমো, তাওয়াকি ও সুজিত কোম্পানি। সব ঠিকঠাক থাকলে এশিয়ায় জাপানের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ কেন্দ্র হবে আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চল।

এ সম্পর্কে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাধারণ সম্পাদক তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে জাপানে এখনো বিধিনিষেধ চলছে। এটি উঠে গেলে জাপানি অনেক বিনিয়োগকারীর বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন