default-image

সরকার চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ কারণে অর্থনীতিতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের সীমাও কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, ব্যাংক খাত থেকে সরকার কম ঋণ নিচ্ছে। আর বেসরকারি খাত থেকে কম নিলেও আরও বেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই বেসরকারি খাতের ঋণ কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঘোষণা দিয়েছে। তবে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ও কৌশলে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।

গত রোববার বিকেলে মুদ্রানীতি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়, যা গতকাল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রানীতি কমিটির সভাপতি হলেন গভর্নর ফজলে কবির। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতি অর্থবছরে একবার মুদ্রানীতি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সময়ে-সময়ে পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন আনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের ঘোষণাটিও সে রকম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দামের গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ২০২১ সালের মধ্যে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করে মুদ্রানীতি কমিটি। দেশের অর্থনীতির প্রকৃত খাতের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা, আমদানি-রপ্তানিসহ বৈশ্বিক চাহিদা পরিস্থিতি বিবেচনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার চলতি অর্থবছরের শুরুতে জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল, যা সম্প্রতি সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।

বিজ্ঞাপন

মুদ্রানীতি কমিটি মনে করে, শিগগির বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ আসবে। সেই হিসেবে দেশেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানোয় মূল্যম্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছে, আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কারণ, লক্ষ্যের চেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসছে, আর রপ্তানি আয়ও তেমন কমেনি।

আবার নতুন মুদ্রানীতিতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যও ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। কারণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে কম ঋণ নিচ্ছে। আগে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, এখন তা কমিয়ে ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্য ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি ঋণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি আগের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরুতে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন