বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হচ্ছে, জাহাজসহ সব ধরনের পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। কয়েক দফা লকডাউনের পর এ বছরের গ্রীষ্মে অর্থনীতি চাঙা হতে শুরু করে। হঠাৎ করেই বেড়ে যায় চাহিদা। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো নিয়ে বৈশ্বিক এই চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বন্দরে বন্দরে বাড়তে শুরু করে জাহাজের জট। আবার চীনসহ অনেক দেশেই স্থানীয় পর্যায়ে সময় সময় লকডাউন ছিল। এতে পণ্য ছাড় করতে সময় বেশি লেগে যায়। ফলে সামগ্রিকভাবে জাহাজের ভাড়া যেমন বেড়ে যায়, তেমনি পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগে। এ কারণেও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। শুরু হয় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এদিকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্ব অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারির ধাক্কায় গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিপুলসংখ্যক মানুষ আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২০ সালে প্রায় ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ভাষায়, এই দরিদ্র মানুষেরা একরকম নাক ভাসিয়ে টিকে আছে। অর্থাৎ পানিতে ডুবন্ত মানুষ যেমন পানির ওপরে নাক ভাসিয়ে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে, ঠিক সে রকম। এরা কখনো দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠে, আবার কখনো নেমে যায়।

বলা হচ্ছে, মহামারি শেষ করার সবচেয়ে কার্যকর ও দ্রুত মাধ্যম হচ্ছে টিকাদান। কিন্তু সেই টিকাদানে দেশে দেশে যোজন যোজন ব্যবধান। উন্নত বিশ্বের ৭৫ শতাংশ মানুষ যেখানে টিকার আওতায় এসেছে, সেখানে নিম্ন আয়ের দেশের মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ৮০ বছরে মন্দার পরবর্তী বছর এত দ্রুত হারে প্রবৃদ্ধি আর হয়নি। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির চরিত্র সমতামুখী নয়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন