বিজ্ঞাপন

বিসিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সিরামিক কারখানার সংখ্যা ৬৮টি। তার মধ্যে ৩০টি টাইলস, ২০টি টেবিল ওয়্যার ও ১৮টি স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। সিরামিক পণ্যের দেশীয় বাজারের আকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ বাজার স্থানীয় উৎপাদকদের দখলে। দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় বাজার টাইলসের। স্যানিটারি ওয়্যারের বাজার ৯০০ কোটি আর তৈজসপত্রের বাজারের আকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার। খাতটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকা।

টাইলস উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল। গত বছর স্যানিটারি ওয়্যারের ওপরও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়। অন্যদিকে আমদানি হওয়া টাইলসের ট্যারিফ ভ্যালু কমানো হচ্ছে।
ইরফান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, বিসিএমইএ

আগামী বাজেটে বাস্তবায়নের জন্য উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার ছাড়াও বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বিসিএমইএ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সিরামিক খাতে নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে ৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা।

সিরামিক পণ্যের কাঁচামালের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রায় ৭০ শতাংশ উপাদান হচ্ছে কোয়ার্টাজ, বল ক্লে, ফেল্ডস্পার ও চায়না ক্লে। এসব কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, কাঁচামাল আমদানি ব্যয় হ্রাস পেলে দেশে সিরামিকের বিক্রয়মূল্য কমে যাবে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেলে রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ হবে।

আমদানি হওয়া বিভিন্ন আকারের টাইলসের ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর দাবি করেছে বিসিএমইএ। তারা বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে তৈরি টাইলস আমদানি পর্যায়ে ন্যূনতম মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। যেখানে দেশীয় পণ্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং বিক্রিকালে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করা রয়েছে, সেখানে আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ মূল্য হ্রাস করে বিদেশি পণ্য আমদানিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সিরামিক পণ্য উৎপাদনে কাঁচামালের অপচয় যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়েছে বিসিএমইএ। তারা বলছে, সিরামিক খাতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ৮০-৯০ শতাংশই প্রাকৃতিক খনিজ পদার্থ। সেই খনিজের মধ্যে জলীয় বাষ্প, লোহা ও পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। সে কারণে চূড়ান্ত উৎপাদন পর্যন্ত ৩০-৪০ শতাংশ প্রক্রিয়াগত লোকসান হয়ে থাকে। অথচ আমদানিতে শতভাগ পণ্যের ওপরই সব ধরনের শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে উৎপাদনে সর্বাধিক ১০ শতাংশ অপচয় মঞ্জুর করা হয়।

বিসিএমইএর সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘টাইলস উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল। গত বছর স্যানিটারি ওয়্যারের ওপরও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়। অন্যদিকে আমদানি হওয়া টাইলসের ট্যারিফ ভ্যালু কমানো হচ্ছে। এতে করে দেশীয় পণ্যের দাম বাড়ছে আর কমছে বিদেশি পণ্যের। আমরা শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করলেও কেন এতটুকু সুরক্ষা পাব না।’

ইরফান উদ্দিন আরও বলেন, ‘করোনার কারণে সিরামিক পণ্যের রপ্তানি কিছুটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। তারপরও আমরা টেবিল ওয়্যারের পাশাপাশি টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য রপ্তানি নিয়ে কাজ করছি। সে কারণে আমরা নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ

থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছি। এই সহায়তা পেলে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন