বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যাংক হিসাবে টাকাওয়ালাদের টাকা বৃদ্ধির দুটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে অর্থাৎ করোনার বছরে এক কোটি টাকার বেশি আছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে। ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি আছে এমন হিসাব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আবগারি শুল্কও বেড়েছে। চলতি ২০২০–২১ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আবগারি শুল্ক আদায় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা বা ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

কেন আবগারি শুল্কের পরিমাণ বাড়ল, এমন প্রশ্নের জবাবে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে পয়সাওয়ালাদের বিদেশ ভ্রমণ নেই বললেই চলে। আবার দেশের ভেতরে ঘোরাফেরাও সীমিত। ফলে ধনীদের হিসাবে অলস টাকা পড়ে আছে। তাঁরা বিনিয়োগেও আগ্রহী হচ্ছেন না। এ ছাড়া যেকোনো সংকটে মধ্যবিত্তের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। করোনাকালে আবগারি শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেন তিনি।

কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ১০ হাজার

করোনার এক বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১০ হাজার বেড়েছে। গত ডিসেম্বর মাস শেষে এমন ব্যাংক হিসাব সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৮৫টিতে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবও আছে। এবার দেখা যাক, বেসরকারি হিসাব অর্থাৎ সাধারণ গ্রাহকদের এক কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা কত বাড়ল। এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকা জমা আছে, ২০১৯ সাল শেষে এমন হিসাব ছিল ৫১ হাজার ৫৫৮টি। ২০২০ সালে যা বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার ৬৯১টি।

আর ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন ব্যাংক হিসাব সংখ্যা (বেসরকারি ব্যক্তির) এক বছরে বেড়েছে ১১৪টি। ২০২০ সাল শেষে এমন হিসাবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫৭টি। বাকি আড়াই হাজারের বেশি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা আছে এমন হিসাবগুলোর মধ্য থেকে।

করোনার মধ্যে কিছু মানুষ নতুন করে ধনী হয়েছেন। আবার ভোগবিলাস; ভ্রমণ বন্ধ করেছেন অনেকে। এসব কারণে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে। পুঁজিবাদী সমাজে ধনীরা আরও ধনী হবে, গরিবেরা আরও নিচে নেমে যাবে।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এমডি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখন দেশে বেসরকারি খাতে বেতনকাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৫-২০ লাখ টাকা বেতনে অনেকে চাকরি করছেন। ফলে এক কোটি টাকা তেমন বড় অঙ্ক নয়। ব্যাংকাররাও এখন ১০ বছরে কোটি টাকা জমানোর সুযোগ পাচ্ছেন। আবার করোনার মধ্যে কিছু মানুষ নতুন করে ধনী হয়েছেন। আবার ভোগবিলাস, ভ্রমণ বন্ধ করেছেন অনেকে। এসব কারণে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে। পুঁজিবাদী সমাজে ধনীরা আরও ধনী হবে, গরিবেরা আরও নিচে নেমে যাবে, এটাই বাস্তবতা।

এদিকে ২০২০ সাল শেষে ব্যাংকে আমানত বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে যা ছিল ১২ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা।

আবগারি শুল্ক ৩০ শতাংশ বেড়েছে

ব্যাংক হিসাবে টাকার পরিমাণ বাড়ায় দেশের শীর্ষ ১৭টি ব্যাংক থেকে গতবারের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি আবগারি শুল্ক পাওয়া গেছে। বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকগুলো থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ১ হাজার ১৬৫ কোটি টাকার আবগারি শুল্ক পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আবগারি শুল্ক আদায় হয়েছিল ৯০০ কোটি টাকার মতো।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি আবগারি শুল্ক আদায় হয়েছে ইসলামি ব্যাংক থেকে। এই ব্যাংক থেকে দেড় শ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক আদায় করেছে এনবিআর। এর পরে সোনালী ও ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকা পেয়েছে এনবিআরের এলটিইউ। দেশের বড় বড় ১৭টি ব্যাংক এলটিইউতে নিবন্ধিত। বাকি ব্যাংকগুলো বিভিন্ন কমিশনারেটে নিবন্ধিত। প্রাথমিক হিসাবে, সব মিলিয়ে সব ব্যাংক থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মতো আবগারি শুল্ক আদায় হয়েছে।

কোথায় কত আবগারি শুল্ক

বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো আবগারি শুল্ক নেই। ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫০ টাকা এবং ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এ ছাড়া ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা; ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার ওপরে থাকলে ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ হয়। বছরে অন্তত একবার কোনো ব্যাংক হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা হলেই আবগারি শুল্ক আরোপ হয়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন