চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের পর কারাবন্দী হন অং সান সু চি। এরপর সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমন করতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে সেখানে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়া টেলিনর মিয়ানমার ছাড়ার ঘোষণা দিল।

এক বিবৃতিতে টেলিনর বলেছে, ‘মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, এমওয়ান গ্রুপ মিয়ানমারে টেলিনরের পুরো ব্যবসা অধিগ্রহণ করতে পারে। তারা টেলিনরের তরঙ্গ, লাইসেন্স, গ্রাহক, কর্মী—সবই নিয়ে নিতে পারে।

এক দশক আগে মিয়ানমার যখন সামরিক শাসনের কবল থেকে গণতন্ত্রের পথে চলা শুরু করল, তখন পশ্চিমের হাতে গোনা যে কটি কোম্পানি মিয়ানমারে বিনিয়োগ করেছিল, টেলিনর তাদের মধ্যে অন্যতম। তারা ছিল মিয়ানমারে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী। ঝুঁকি আছে জানা সত্ত্বেও তারা সেখানে বিনিয়োগ করেছিল। এখন সেই ঝুঁকির মুখেই তাদের মিয়ানমার ছাড়তে হচ্ছে।

বিক্ষোভ-জমায়েত ঠেকানোর জন্য অভ্যুত্থানের দিনই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী টেলিনর ও অন্য অপারেটরদের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের সমালোচনা করলেও তা মেনে চলে টেলিনর। পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির বিদেশি কর্মকর্তাদের বিনা অনুমতিতে মিয়ানমার ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনগণের ওপর নজরদারি করতে নেটওয়ার্কে নজরদারির যন্ত্রপাতি বসানোর জন্যও কোম্পানিগুলোকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সংকটে পড়ে টেলিকম ব্যবসা। টেলিনরের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে মে মাসে টেলিনর তাদের মিয়ানমার ইউনিটের সম্পদমূল্য অবলোপন করতে বাধ্য হয়।