বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত জুন ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রস্তাব দুই দফায় ফেরত পাঠায়। তখনো বলা হয়েছিল, ট্যাব কেনার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি আছে। জানা গেছে, ট্যাব সরবরাহে যে দুটি কোম্পানি দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছে, দুই কোম্পানির মধ্যে দামের বেশ ফারাক রয়েছে। তাই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কারণে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে সর্বশেষ জনশুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে। এরপর ২০২০ সালে ষষ্ঠ জনশুমারির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এত দিনে সেটির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজই শুরু হয়নি। ফলে জনসংখ্যাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ১০ বছর আগের তথ্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। এবারের জনশুমারির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রথমে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল গত ২ থেকে ৮ জানুয়ারি। পরে সেটি পিছিয়ে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ট্যাব কেনার জটিলতায় ওই সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। পরে আরেক দফা সময় বদলে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গতকাল এ প্রকল্পের ট্যাব কেনার প্রস্তাব ফেরত দেওয়ায় কবে গৃহগণনার কাজ শুরু হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিবিএস সূত্রে জানা যায়, প্রতি ১০ বছর পর জনশুমারি পরিচালনার নিয়ম। এর আগের পাঁচবারের জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল কাগজে বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে। এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে গৃহগণনার সিদ্ধান্ত নেয় বিবিএস। এ জন্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭২টি ট্যাব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ট্যাব সরবরাহ করতে ফেয়ার ইলেকট্রনিক লিমিটেড ও ওয়ালটন ডিজে টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দরপত্রে অংশ নেয়। ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭২টি ট্যাবের জন্য ফেয়ার ইলেকট্রনিক দাম দেয় ৫৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে ওয়ালটন দাম দেয় ৪০২ কোটি টাকা। দুটি কোম্পানির মধ্যে দামের পার্থক্য ১৩৫ কোটি টাকা। এত বিশাল পার্থক্য কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

জানতে চাইলে বিবিএস মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করছি ১০ দিনের মধ্যে পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে পারব আমরা।’

২ থেকে ৮ জানুয়ারি জনশুমারির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটি পিছিয়ে করা হয় ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। ট্যাব কেনার জটিলতায় তা শুরু করা যায়নি। পরে তা পরিবর্তন করে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর গৃহগণনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় সেটি আবার পেছাল।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন