এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাণিজ্য সুবিধার বিষয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা হারালে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে আলোচনা কম।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশেষ ফেলো, সিপিডি

ট্রিপস চুক্তির ‘এলডিসিসংক্রান্ত ধারা সংশোধন ও গ্র্যাজুয়েটিং বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য’ শীর্ষক আলাপচারিতায় আজ শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসির (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনলাইনে এ আলাপচারিতা করেন ডব্লিউটিওতে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রতিনিধি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ডব্লিউটিওর সাধারণ কাউন্সিলের বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী মহলের মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে অনীহা আছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাণিজ্য সুবিধার বিষয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা হারালে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে আলোচনা কম।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি ডব্লিউটিওতে ওষুধ শিল্প ছাড়া মেধাস্বত্ব চুক্তির সাধারণ ধারায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে আরও ১৩ বছরের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে পেটেন্ট, কপিরাইট, ভৌগোলিক নির্দেশক, শিল্পের নকশা, বিনিয়োগকারীর তথ্য–উপাত্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাধ্যবাধকতার শর্ত শিথিল থাকবে। কিন্তু ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে এই সব শর্ত মানতে হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশে আলোচনা নেই বললেই চলে।

এ ছাড়া কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে করোনার টিকা বানানোয় মেধাস্বত্বের শর্তসমূহে ছাড় দেওয়ার জন্য ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রস্তাব ডব্লিউটিওতে আছে বলে দেবপ্রিয ভট্টাচার্য জানান। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পের এলডিসির অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে। কিন্তু ওই প্রস্তাবটি নিয়ে বাংলাদেশে তেমন আলোচনা নেই।