বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রদর্শনীজুড়ে ডেনিমসহ পোশাকের ব্যবসা টেকসই করতে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রদর্শনীর স্টল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কাগজের কোণ ও ব্যবহৃত কাঠ। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম পানি ও রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদিত ডেনিম কাপড় প্রদর্শন করছে। পুরোনো ডেনিম পোশাক প্রক্রিয়াজাত করে নতুন ডেনিম কাপড় উৎপাদন করছে কেউ কেউ। শুধু ডেনিম কাপড় নয়; লেবেল, পলিব্যাগের মতো সরঞ্জামও পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদন শুরু করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এগুলো নতুন না হলেও করোনার আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেল অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে।

তুরস্কের ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘বোসা’ বাংলাদেশের ১৫টি পোশাক কারখানাকে বছরে ১০ লাখ গজ দামি ডেনিম কাপড় সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া অঞ্চলের বিক্রয় ব্যবস্থাপক ইলমাজ ডেমির বলেন, বাংলাদেশ ভালো ব্যবসা করছে। সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ডেনিম খাত। ডেনিমের ব্যবসা আজ ভালো। কাল কী হবে জানি না।

১০ বছর আগে নিজেদের কারখানার উৎপাদিত ডেনিম কাপড়ের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে রপ্তানি করত পাকিস্তানের ‘নাভিনা এক্সপোর্টস লিমিটেড’। বর্তমানে সেটি ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, কারণ, এক দশকে বাংলাদেশে বেশ কিছু ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক রাশিদ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে এখন আমরা মাসে পাঁচ লাখ গজ ডেনিম কাপড় রপ্তানি করি। সেটি বাড়ানোর জন্য আমরা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছি।

default-image

মাহমুদ ডেনিম মাসে ৩৫ লাখ গজ ডেনিম কাপড় উৎপাদন করে। তাদের কাপড়ের গড় দাম ৩ ডলার। আগের তুলনায় ১০ শতাংশ কম পানি ও ৫ শতাংশ কম রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদিত ডেনিম কাপড় প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করছে।

প্রদর্শনীতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন সে বিষয়ে মাহমুদ ডেনিমের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শাকিল মাহমুদ বলেন, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা আসছেন। তবে বিদেশি ক্রেতা একেবারেই কম। কারণ, আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রদর্শনী কেবল শেষ হওয়ায় তাদের বড় অংশই বাংলাদেশের এই আয়োজনে আসার সুযোগ পাননি।

দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী করোনা–পরবর্তী তৈরি পোশাক খাতের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আসছেন। এক ফাঁকে দেখা হলো এইচঅ্যান্ডএমের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার প্রধান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুনিয়াতে যতগুলো পোশাক উৎপাদনকারী দেশ রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো। সে কারণে চীন থেকে প্রচুর ক্রয়াদেশ স্থানান্তরিত হয়েছে।

default-image

প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্রথম দিনে সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন বলেন, নিরাপত্তা ও টেকসই হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিল্পটি আরও টেকসই করতে যা যা করণীয় আছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগই মূল বিষয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান প্রমুখ।

প্রদর্শনীতে নানাভাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা। যেমন—একটি রিকশাকে ডেনিম কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশেই রাখা হয়েছে পুরোনো ডেনিম কাপড় দিয়ে তৈরি মোটরসাইকেল। সেখানে দর্শনার্থীদের অনেককেই সেলফি তুলতে দেখা যায়। আবার বাংলার সোনালি আঁশের ব্যবহারও রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

দুপুরের দিকে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। তাঁর মধ্যেই পুরো প্রদর্শনীস্থলে দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেল। পার্কিংয়েও গাড়ির লম্বা সারি, দর্শনার্থীরা আসছেন। বাইরের আকাশ কালো হলেও তখন পুরো প্রদর্শনীস্থল ছিল আলোয় আলোকিত।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন