default-image

তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের মধ্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত আছে বলে মনে করে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে সৃজনশীলতা আর তরুণ জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের পর্বে তথ্যপ্রযুক্তি হতে পারে বড় নিয়ামক। আর উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং কুন সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

লি জাং কুন গত সপ্তাহে এই প্রতিবেদকসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে চট্টগ্রামের কেইপিজেড পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি এবং ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান কিহাক সাং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত এবং কেইপিজেড নামে পরিচিত কোরিয়া রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা হচ্ছে কোরিয়ার খ্যাতনামা শিল্প গ্রুপ ইয়াংওয়ানের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

ইয়াংওয়ান যত বেশি সফলতা আর স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজ করবে, তা আরও অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীকে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে’,
কিহাক সাং, ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান

এখন পর্যন্ত কোরিয়ার মালিকানাধীন ওই রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় মূলত তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি সেখানে জুতা ও চামড়াজাত পণ্যও উৎপাদিত হয়। দেশের প্রথম ব্যক্তিমালিকানাধীন আইটি ও হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য গত মাসে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ), কেইপিজেড ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে। এর আওতায় কেইপিজেডের ২ হাজার ৪৯২ একরের মধ্যে ১০০ একর এলাকায় ওই আইটি ও হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের পথে থাকার সময়টায় সহযোগিতার কোন বিষয়টিতে দক্ষিণ কোরিয়া জোর দিতে চায় জানতে চাইলে লি জাং কুন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশ হচ্ছে তরুণ। এই জনগোষ্ঠী তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে বড় শক্তি। এ ক্ষেত্রে অংশীদার হতে তৈরি আছে দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি জানান, তথ্যযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ মুহূর্তে এ দেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

কেইপিজেডকে দুই দেশের সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং কুন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি আইটি ও হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কেইপিজেড। তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড–পরবর্তী জীবনযাত্রায় ডিজিটালাইজেশনের যুগে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার সময়টায় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সৃজনশীল প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখবে হাইটেক পার্ক। তাই কেইপিজেডে হাইটেক পার্ক চালু হলে তা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ আর মানবসম্পদ উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বিকাশের সূচনালগ্ন থেকে যুক্ত আছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর সহযোগিতার ক্ষেত্রটা আরও বিস্তৃত করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ওই কূটনীতিক। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল নির্মাণের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের যুক্ততার প্রসঙ্গ টানেন।

দুই দেশের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আরও সাফল্য তুলে ধরার ওপর জোর দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জাং কুন বলেন, বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পগুলোর অন্যতম হচ্ছে ইয়াংওয়ান। আমরা যদি ইয়াংওয়ান আর কেইপিজেডের মতো আরও সাফল্যের গল্পর লোকজনের সামনে তুলে ধরতে পারি, অনেক বিনিয়োগকারীই এ দেশে আসবেন।

এ প্রসঙ্গে ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, ইয়াংওয়ান যত বেশি সফলতা আর স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজ করবে, তা আরও অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীকে বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইয়াংওয়ানের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পটিয়া ও আনোয়ারা এলাকার লোকজন এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সচ্ছল। চূড়ান্তভাবে এটি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধা রয়েছে। সেগুলো দূর করা জরুরি বলে মত দেন কিহাক সাং। এ প্রসঙ্গে তিনি স্যামসাংয়ের বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে জানান, ২০০৭ সালে তারা এখানে আগ্রহ নিয়ে এসেছিল। পরে অবকাঠামোর ঘাটতি থাকায় তারা ভিয়েতনামে বিনিয়োগ করেছে।

কিহাক সাং বলেন, অবকাঠামোর পাশাপাশি কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতাও বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। তাই শুধু তৈরি পোশাকই নয়, অন্যান্য শিল্পেও বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে উন্নতি করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, অতীতে চীন বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এখন ভিয়েতনামের কাছ থেকে অনেক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন