দাম বেড়ে যাওয়ায় চাল আমদানির উদ্যোগ

চাল
ফাইল ছবি

রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দামে বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সবজি ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর এবার বাড়তে শুরু করেছে প্রধান ভোগ্যপণ্য চালের দাম। সে জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আজ সোমবার থেকেই মন্ত্রণালয়ে এ–সংক্রান্ত চাহিদাপত্র জমা দিতে পারবেন।

গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বাজারে এর একটা প্রভাব থাকে।

এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তালিকায়ও দেখা গেছে, চালসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সংস্থাটি ঢাকা শহরের ১৩টি বাজারের তথ্যের ভিত্তিতে দামের এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে।

‘চাল আমদানিকারকেরা সোমবার (আজ) থেকে আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দিতে পারবেন। পরে সরকার সব দিক বিবেচনা করে কতটুকু আমদানি করা যাবে, সে সিদ্ধান্ত জানাবে।’
সাধন চন্দ্র মজুমদার, খাদ্যমন্ত্রী

টিসিবির তথ্য বলছে, বাজারে এখন সরু চাল বিক্রি হচ্ছে (নাজিরশাইল ও মিনিকেট) ৬৪ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৪ থেকে ৭৫ টাকা। মোটা চালের (গুটি স্বর্ণা ও চায়না ইরি) দামও বেড়েছে ১ শতাংশ।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত তিন–চার দিনে পাইকারিতে মোটা চাল গুটি স্বর্ণার দাম বেড়েছে টিসিবির হিসাব থেকে বেশি। এই চালের দাম প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বাজারে প্রতি বস্তা বিআর–২৮ চাল ১৫০ টাকা ও মিনিকেট ৫০ টাকা বেড়েছে। এ তিন ধরনের চালে কেজিপ্রতি পাইকারিতে বেড়েছে ১ থেকে ৩ টাকা। খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এ অবস্থায় সরকারের প্রতি চাল আমদানির আহ্বান জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ইসমাইল অ্যান্ড সন্স রাইস এজেন্সির মালিক জসিম উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্যার কারণে বাজারে সরবরাহের একটু ঘাটতি আছে। এতে বেশ কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর চালের দাম আবার একটু বাড়তির দিকে। আমরা আজ চাল কিনেছি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তিতে।’

গত ঈদুল ফিতরের পর দেশে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে এক দফা অভিযান পরিচালনা করেছিল। তাতে চালের দাম না কমলেও নতুন করে আর বাড়েনি। এখন আবার দাম বাড়তে থাকায় সরকার চাল আমদানির পরিকল্পনা করছে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাল আমদানিকারকেরা সোমবার (আজ) থেকে আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দিতে পারবেন। পরে সরকার সব দিক বিবেচনা করে কতটুকু আমদানি করা যাবে, সে সিদ্ধান্ত জানাবে।’

বন্যার প্রভাবে বাজারে সপ্তাহখানেক আগেই সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এবার পাইকারিতে আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও নিউমার্কেট এলাকার পাইকারি আলু ব্যবসায়ীরা জানান, দুই দিন আগেও এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) আলু বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। গতকাল সেটা বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। অর্থাৎ, পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিতে ২২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা।

এদিকে কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় কমতে শুরু করেছে মাংসের দাম। রাজধানীর নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৬৬০ টাকায়। দুই মাস আগে গরুর মাংসের দাম বেড়ে কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

বাজারে মুরগির দামও এখন কমতির দিকে। সব ধরনের মুরগির দাম ১৫ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বরাবরের মতো বাজারে মসলার দাম বাড়েনি।