দেশি ফলের প্রতাপে ক্রেতাশূন্য বিদেশি ফলের বাজার

ক্রেতাশূন্য বিদেশি ফলের বাজার
ছবি: প্রথম আলো

লাল আপেল ১৫০, নাশপতি ১৮০—এভাবে ফলের দাম ধরে কারওয়ান বাজারের ফল বাজারে দাম হাঁকছিলেন বিক্রেতা জিয়াউদ্দিন। স্বাভাবিকভাবেই পথচারীদের চোখ চলে যায় মধ্যবয়সী সেই ফল বিক্রেতার দিকে। চার–পাঁচ ধরনের বিদেশি ফল তাঁর সামনে থরে থরে সাজানো। কিন্তু গতকাল রোববার ফল বাজারে ক্রেতাদের বিদেশি ফলের দিকে খুব কমই আকৃষ্ট হতে দেখা যায়।

ফল বাজারে এখন দেশি ফলের আধিপত্য। বাজারে এখন অন্তত চার ধরনের আম—হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি ও ল্যাংড়া। ক্রেতারা কিনছেনও দেদার। তাই দাম জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতারা আর কেজিতে দাম বলেন না, বলেন পাল্লায় (পাঁচ কেজি)।

বাজারে উঠেছে জাতীয় ফল কাঁঠাল। লিচুর মৌসুম কিছুটা পড়তির দিকে, তারপরও বাজারে তার উপস্থিতি ভালো। শুধু দামটা একটু চড়া। এ ছাড়া দেশি ফল লটকন, ডেউয়া, জাম নিয়ে জমজমাট দেশি ফলের বাজার। তরমুজের মৌসুম অনেক আগে ফুরিয়ে গেলেও ছোট আকারের কিছু তরমুজ শোভা বাড়াচ্ছে গ্রীষ্মকালীন ফল বাজারের। দেশি ফলের এমন বাড়বাড়ন্তের সময় একদমই পেছনে পড়ে গেছে বিদেশি ফল।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজারের অন্তত গোটা পঞ্চাশ খুচরা ফল বিক্রেতার মধ্যে গতকাল মাত্র তিনজন-চারজন বিদেশি ফল বিক্রি করছিলেন। ফলের মান খুব ভালো না হওয়ার দামও কম। যে সবুজ আপেল সাধারণ সময়ে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, তার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। লাল আপেলের দাম আরও কম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি, গত মাসেই ছিল ১৮০ টাকা। মাল্টার দর কমে হয়েছে ১১০ টাকা কেজি আর নাশপতি ১৮০ টাকা। সার্বিক হিসাবে সব বিদেশি ফলের দামই কেজিতে গড়ে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে।

দাম কমিয়েও ক্রেতা টানতে পাড়ছেন না বিদেশি ফলের বিক্রেতারা। কারণ, দাম কমার পরও দেশি ফলের চেয়ে বিদেশি ফলের দাম বেশি। রোববার কারওয়ান বাজারে জাতভেদে এক কেজি আমের দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা। জামের দাম কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ছোট কাঁঠাল ১৫০ টাকা আর বড়গুলো ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন লটকন উঠেছে, দাম ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। আর লিচুর মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় ১০০ লিচুর দাম ৬০০ টাকা। ছয় শ টাকা দরেই ৫০টি লিচু কিনতে দেখা গেল কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আমেনাকে। তিনি বললেন, ‘বেশি দাম হলেও নাতি-নাতনিদের জন্য মৌসুমি ফল কিনলাম, মৌসুমি ফলে পুষ্টি থাকে।’

বাজারে ক্রেতাদের বড় অংশের ঝোঁক ছিল দেশি ফলের দিকে। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিদেশি ফলের বাজারে একজন ক্রেতার দেখা মেলে। মগবাজার থেকে কারওয়ান বাজারে আপেল কিনতে আসা সেই ক্রেতা ব্যাংক কর্মকর্তা হাসান আল মামুন বলেন, ‘ছেলে আপেল খেতে চেয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিদেশি ফল তেমন পাওয়া যাচ্ছে না, তাই আপেল কিনতে কারওয়ান বাজারে এসেছি।’ তবে তাঁর মতো ক্রেতা রোববার খুব কম ছিল। দেশি ফলের একজন বিক্রেতা গড়ে একসঙ্গে চারজন ক্রেতার কাছে ফল বিক্রি করছেন। অন্যদিকে বিদেশি ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, ‘সারা দিন অপেক্ষা করে চার–পাঁচজনের বেশি ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।’

বিক্রি না হওয়ায় পচে যাচ্ছে বিদেশি ফল। পচা ফলের স্তূপ দেখিয়ে কারওয়ান বাজারের আরেক বিক্রেতা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন বিদেশি ফলের দাম কমছে। দেখা যায়, আমরা একটা দাম ধরে কিনে এনেছি, পরে তা আরও কমে গেছে, এভাবে লোকসান হচ্ছে।’