বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে কাগজে-কলমে ১৮৪টি শুল্ক স্টেশন আছে। কিন্তু সক্রিয় রয়েছে মাত্র ৩৭টি শুল্ক স্টেশন। এর মধ্যে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হয়। যেসব শুল্ক স্টেশন তথা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত ব্যবসা-বাণিজ্য হয়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেনাপোল, তামাবিল, হিলি, সোনামসজিদ, দর্শনা, শেওলা, বুড়িমারী, ছাতক, বিরল, বিবিরবাজার, টেকনাফ, আখাউড়া, জকিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ।

বাকি শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে কোনো রকম আমদানি-রপ্তানি হয় না। এগুলো কাগজে-কলমেই শুধু শুল্ক স্টেশন। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক স্টেশনগুলোতে কোনো ওয়্যারহাউস নেই। পানি–বিদ্যুৎ–গ্যাসের সুবিধাও নেই। এমনকি কোনো অফিস বা লোকবল পর্যন্ত নেই।

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি এবং এ কে খান গ্রুপের পরিচালক আবুল কাশেম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এতগুলো শুল্ক স্টেশন রাখার দরকার নেই। যেসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে তুলনামূলক বেশি আমদানি-রপ্তানি হয় কিংবা যেগুলো সক্রিয় আছে, সেগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল দিয়ে কার্যকারিতা বাড়ালেই ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে। সুবিধা বাড়লে ব্যবসায়ীরাও এসব শুল্ক স্টেশন ও স্থলবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন।’ তিনি কার্যকর নয়, এমন শুল্ক স্টেশনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

বারবার ব্যর্থ উদ্যোগ

অকার্যকর শুল্ক স্টেশনগুলো বিলুপ্ত করতে দেড় দশক ধরে কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। কারণ, শুল্ক স্টেশন বন্ধ করতে হলে শুধু এনবিআর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতও লাগে। সাধারণত রাজনৈতিক বিবেচনায় জনপ্রতিনিধিরা চান না যে অকার্যকর শুল্ক স্টেশনগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হোক।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো বাণিজ্য না হওয়ায় ২০০৭ সালের ১ জুলাই ৫০টি শুল্ক স্টেশন অকার্যকর ঘোষণা করা হয়। ওই তালিকায় যেসব শুল্ক স্টেশন আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ডোরা বাজার, পাকশী, বরিশাল, চরমুগুরিয়া, গোয়ালন্দ, শংকর, শিবগঞ্জ, নীদপুর, প্রেমতলী, ধামইরহাট, বগুড়া, সান্তাহার, নেকমর্দ, নীলফামারী, মোগলহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, উখিয়া ঘাট, চৌমুহনী, শুভপুর, কুমারঘাট, লাতু, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, সরিষাবাড়ী, ভৈরব, ময়মনসিংহ, মীরকাদিম, মুন্সিগঞ্জ, লৌহজং, আরিচাঘাট, রংপুর, আনমুরা রেলস্টেশন ও শ্রীপুর। অকার্যকর ঘোষিত শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে গত দেড় দশকেও কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি।

২০১২ সালেও আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অকার্যকর শুল্ক স্টেশন বন্ধ করতে এনবিআরের গঠিত কমিটি একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছিল। পরে আর অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮ সালেও উদ্যোগ নিয়ে এগোতে পারেনি এনবিআর। তখন বাণিজ্য, নৌ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক একাধিক সভা করে সংস্থাটি। তখন কোন কোন শুল্ক স্টেশন বিলুপ্ত করা হবে, এর একটি খসড়া তালিকাও করেছিল এনবিআর। এর পরে আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি এ সংস্থা।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে সংস্থাটির একাধিক শুল্ক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এনবিআর কোনো শুল্ক স্টেশন সরাসরি বন্ধ করতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতসহ দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এনবিআর নিজস্ব ক্ষমতায় অকার্যকর শুল্ক স্টেশনগুলো দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করেছে। অবশ্য অনুমতি সাপেক্ষে আমদানি-রপ্তানি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কিছু স্টেশনের পুনর্জাগরণ

২০১৭ সালে খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত রেলপথে বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয়। এ জন্য খুলনা শুল্ক স্টেশনটি আবারও চালু করা হয়। সেই ব্রিটিশ আমলে এ রেলপথ বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় ৫৫ বছর পরে চলতি বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিবাড়ীর সঙ্গে নীলফামারীর চিলাহাটির রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে চিলাহাটি শুল্ক স্টেশনটিও কার্যকর করা হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল আনার জন্য সেখানে নতুন একটি শুল্ক স্টেশন করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুল্ক স্টেশন দিয়েই সেখানকার সব মালামাল আসে। পদ্মা সেতুর মালামাল আনার ক্ষেত্রেও লৌহজং শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন