বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনাকালেও সম্পদের পাহাড়

সমাজবিজ্ঞানীদের একটি নেটওয়ার্কের তৈরি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক আয়ের ৫২ শতাংশই করে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ। আর অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা দরিদ্র মানুষের আয় হলো বৈশ্বিক আয়ের মাত্র ৮ শতাংশ। এখন বিশ্বের মোট সম্পদের মধ্যে ৭৬ শতাংশের মালিক হলেন শীর্ষ ১০ অতিধনী। অথচ দরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে মাত্র ২ শতাংশ সম্পদ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের তৈরি বিশ্বের বার্ষিক বিলিয়নিয়ার বা অতিধনী তালিকায় ২০২১ সালে রেকর্ডসংখ্যক, ২ হাজার ৭৫৫ জন, বিলিয়নিয়ারের নাম উঠে এসেছে, যাঁদের সম্পদের সম্মিলিত মূল্য ১৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন বা ১৩ লাখ ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছর তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮ ট্রিলিয়ন বা ৮ লাখ কোটি ডলারের কিছু বেশি। প্রসঙ্গত, ১০০ কোটিতে ১ বিলিয়ন হয়, আর যাঁদের সম্পদের মূল্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা এর চেয়ে বেশি হয়, তাঁদের বিলিয়নিয়ার বা অতিধনী বলা হয়। এ ছাড়া ট্রিলিয়ন হলো ১ লাখ কোটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সম্পদের ১১ শতাংশ রয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ধনী লোকের কাছে।

ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, বিদায়ী ২০২১ সালে শুধু শীর্ষ ১০ অতিধনীর সম্পদ বেড়েছে ৪০ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ১২ হাজার ১০০ কোটি ডলার। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোসের সম্পদ ৪৫৪ কোটি ডলার বেড়েছে।

অন্য অতিধনীদের মধ্যে কার সম্পদ কত বেড়েছে, তা দেখে নেওয়া যাক। ফ্রান্সের বিলাসী পণ্য বিক্রেতা এলভিএমএইচের প্রতিষ্ঠাতা বার্নার্ড আর্নল্টের ৬ হাজার ১৩০ কোটি, ফেসবুকের (মেটা) মার্ক জাকারবার্গের ২ হাজার ৪৩০ কোটি, মাইক্রোসফটের সাবেক সিইও স্টিভ ব্যালমারের ৪ হাজার ১২০ কোটি, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ৭ হাজার ১৩০ কোটি, ওরাকলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি অ্যালিসনের ২ হাজার ৮৮০ কোটি, বিনিয়োগগুরু তথা বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন বাফেটের ২ হাজার ১৪০ কোটি, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের সম্পদ যথাক্রমে ৪ হাজার ৭৪০ কোটি ও ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার বেড়েছে।

মহাকাশে পৌঁছে গেল পর্যটন

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস ও ৫৮৯তম ধনী রিচার্ড ব্র্যানসনের হাত ধরে ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো সীমিত পরিসরে রকেটে চড়ে বেসরকারিভাবে মানুষের মহাকাশে যাওয়া শুরু হয়। এর মাধ্যমে মহাকাশ পর্যটন শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন গত ১১ জুলাই মর্ত্য থেকে মহাশূন্যে উড়াল দেন। তিনি প্রত্যেক যাত্রীর কাছে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার দামে টিকিট বিক্রি করেন।

বহুজাতিক ই-কমার্স আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোস ২০ জুলাই নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের নিউ শেফার্ড রকেটে চড়ে মহাশূন্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিনি সহযাত্রী হিসেবে নিজের ভাই, নেদারল্যান্ডসের ১৮ বছর বয়সী ছাত্র অলিভার ডেমেনসহ তিনজনকে নিয়ে যান। ব্লু অরিজিনের নিউ শেফার্ড রকেট গত বছর দ্বিতীয়বারের মতো গত ১৩ অক্টোবর আবার মহাকাশে ওড়ে। এবারে অন্যতম অভিযাত্রী ছিলেন অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার। বছরে তৃতীয়বারের মতো গত ১১ ডিসেম্বর মহাকাশে ওড়ে নিউ শেফার্ড। এবারে অভিযাত্রী ছিল ছয়জন।

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইলন মাস্ক নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রকেটে চড়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মহাকাশে যান। তাঁর মহাকাশ অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘ইনস্পাইরেশনফোর মিশন। স্পেসএক্সের রকেটের ওই উড্ডয়নে মহাকাশে যান বিশ্বের ১ হাজার ৩৬২তম বিলিয়নিয়ার জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।

২০০৯ সালে সয়ুজ এমএস-২০ নামে রাশিয়ার একটি নভোযান কানাডীয় বিলিয়নিয়ার গাই লালিবার্তেকে নিয়ে মহাকাশে উড়েছিল। সয়ুজ গত ৮ ডিসেম্বর বিশ্বের ৩০তম ধনী জাপানের ইউসাকু মায়েজাওয়া ও তাঁর সহকারী ইওজো হিরানোকে নিয়ে আবার মহাকাশে ওড়ে।

সম্পদের প্রাচুর্যে সমুদ্রবিলাস

করোনাকালে অতিধনীদের অনেকেই সাগর-মহাসাগরে নতুন সুপারইয়ট ভাসিয়েছেন। সম্প্রতি সুপারইয়ট গ্রুপ এক প্রতিবেদনে জানায়, বিদায়ী ২০২১ সালের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) ৩০ ফুটের বেশি লম্বা—এমন ২০০টি সুপারইয়ট বিক্রি হয়েছে। ২০২২ সালের জন্য ইতিমধ্যে ৩৩০টি সুপারইয়ট কেনার আদের আদেশও দিয়ে রেখেছেন অতিধনীরা। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রগুলোয় ৬৫ ফুটের বেশি লম্বা—এমন ৯ হাজার ৩৫৭টি ইয়ট ভাসছে।

সাধারণত, সুপারইয়টের দাম ১ কোটি থেকে ৬০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৬ কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা। করোনাকালে অতিধনীদের মধ্যে যাঁরা সুপারইয়ট কিনেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স আমাজনের সিইও জেফ বেজোস ও চীনা ই-কমার্স আলিবাবার নির্বাহী চেয়ারম্যান জ্যাক মা। বেজোস ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় কেনেন ৪১৭ ফুট দৈর্ঘ্যের ইয়ট।

সূত্র: ডেইলি মেইল, রয়টার্স, ফোর্বস, লাইভমিন্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনবিসি

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন