default-image

নতুন করে আবার ধারদেনার ভয়ে বাড়ি ফেরার সাহসই হারিয়ে ফেলেছেন মো. সাব্বির। তাই মালিক বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বললেও তা না শুনে পড়ে আছেন বন্ধ কারখানায়। সাব্বির কাজ করেন রাজধানীর মিরপুরের তালতলা এলাকার একটি আসবাবের কারখানায়। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে অন্য দোকানপাটের সঙ্গে এটিও বন্ধ রয়েছে। গত বছর করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে, তখন চাঁদপুরের কচুয়ায় গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন সাব্বির। ওই সময় তিন মাসের বেতন পাননি। তাই বাড়ি গিয়ে সংসার চালাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করতে হয়। সেই দেনার টাকা এখনো শোধ করতে পারেননি। এ অবস্থায় নতুন করে বাড়ি ফিরে গেলে আবার ধারদেনা করতে হবে।

গরিব ঘরের সাব্বির পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তাঁর আয়েই চলে সংসার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এসএসসির বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। পরিবারের সহায়তায় নামতে হয় কাজে। গত তিন বছর কাজ করছেন আসবাবের কারখানাটিতে। সাব্বির বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা কোনো দিন ভাবনায়ও ছিল না। ভালোই চলছিল সবকিছু। মাস শেষে নিয়মিত বেতন পেতাম। সেই টাকায় ভালোই চলে যাচ্ছিল। কিন্তু করোনা সব তছনছ করে দিল।’

বিজ্ঞাপন
আগে আমাদের কাজের খুব বেশি অসুবিধা হতো না। এখন সবার অবস্থাই খারাপ। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে। সেখানে এখনো যে টিকে আছি, তাতেই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।
মো. সাব্বির

সাব্বির জানান, ‘এখন দোকান বন্ধ। কিন্তু কোটি টাকার মূল্যবান আসবাব রয়ে গেছে। সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দরকার হয়। আবার গুদামে থাকা কাঠের আসবাবও মেরামতের প্রয়োজন হয়। সেই কাজগুলোই এখন করছি। যদিও দোকানের মালিক বাড়ি চলে যেতে বলেছেন। কিন্তু মাসের অর্ধেক কাজ করেছি। এখন যদি চলে যাই, তাহলে হয়তো এ কয় দিনের টাকাটা পাব না। তা ছাড়া বাড়ি গিয়ে করব কী? সংসার চালাব কী করে?’

পরিস্থিতি হয়তো দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এ আশায় আছেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘আগে আমাদের কাজের খুব বেশি অসুবিধা হতো না। এখন সবার অবস্থাই খারাপ।

অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে। সেখানে এখনো যে টিকে আছি, তাতেই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন