বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর চিঠি দিয়ে এমনটাই বলেছেন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে জমির মূল্য কমবে। এই শহরে যাঁর এক টুকরা জমি রয়েছে, তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আবার প্রস্তাবিত ড্যাপ অনুযায়ী ঢাকার জনঘনত্ব নামিয়ে আনতে হলে অর্ধকোটি মানুষকে এই শহর থেকে বিতাড়ন করতে হবে। ফলে প্রস্তাবিত ড্যাপ বাস্তবায়িত হলে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানীতে এখন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১০ সালের ড্যাপ ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে। ২০০৮ সালে করা এই বিধিমালায় জমির আয়তন অনুযায়ী কত তলা বা উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যাবে, তা উল্লেখ আছে। এই বিধিমালার কারণে বেশি উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ১৯৯৬ সালের বিধিমালায় ধানমন্ডিতে যে জমিতে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, ২০০৮ সালের বিধিমালার ফলে সেই জমিতে ১৪ তলা ভবন হচ্ছে।

অবশ্য নতুন খসড়া ড্যাপে প্রস্তাব করা হয়েছে, গণপরিসর বা সাধারণ মানুষের জন্য জায়গা না ছাড়লে ব্যক্তিপর্যায়ে ধানমন্ডিতে ৮ তলার ওপরে আর ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নতুন ড্যাপে আবাসিক ভবনের উচ্চতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি শুধু ধানমন্ডি নয়, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঢাকা শহরের সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে। আর রাজউকের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌর এলাকায় আবাসিক ভবন হবে সর্বোচ্চ ৬ তলার।

আবার ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, ২০ ফুট সড়কসংলগ্ন ৫ কাঠা জমিতে সর্বোচ্চ ৮ তলাবিশিষ্ট ভবনে মোট সাড়ে ১৩ হাজার বর্গফুট নির্মাণের অনুমতি মিলত। আর প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে সমপরিমাণ জায়গায় নির্মাণ করা যাবে সর্বোচ্চ ৫ তলাবিশিষ্ট মোট ৯ হাজার বর্গফুটের ভবন। তবে ২০ ফুটের চেয়ে কম প্রশস্তের সড়কের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা ৩-৪ তলার বেশি হবে না।

জানা যায়, প্রস্তাবিত ড্যাপ নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৫-২০ বার বৈঠক করেছেন রিহ্যাবের নেতারা। তবে বিষয়টির সুরাহা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার আবারও বৈঠক আছে।

জানতে চাইলে রিহ্যাবের সহসভাপতি সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, উত্তরার পরিকল্পিত এলাকায় ভবনের আয়তন ২০ শতাংশের বেশি কমবে না, রাজউক থেকে সেই আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে সেটি যথেষ্ট নয়। ভবনের উচ্চতা, আয়তন অথবা আকার বর্তমানের মতো বহাল না রাখা হলে আবাসন ব্যবসা থাকবে না।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন