default-image

দারিদ্র্য বিমোচনে শুধু আজীবন টাকা খরচ করলেই চলবে না, দরিদ্রদের স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখাতে হবে। বিনিয়োগ হিসেবেও এটি অধিকতর কার্যকর। এই ব্যবস্থায় সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন যুক্ত হলে ব্যাপারটা ফলপ্রসূ হয়।

সদ্য সমাপ্ত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দাভোস ২০২১ সম্মেলনের ভার্চ্যুয়াল এক অধিবেশনে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলতেন, দারিদ্র্য বিমোচনে নারীদের ভূমিকা সবচেয়ে উজ্জ্বল। আসিফ সালেহ এ নিয়ে বলেন, পৃথিবীতে নারীকেন্দ্রিক উন্নয়নের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। নারীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হলে সমাজের সব সূচকেই প্রভাব পড়ে। এতে নবজাতকের মৃত্যুহার হ্রাসের পাশাপাশি পুষ্টি সূচকেরও উন্নতি হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি পায়। সে জন্য নারীদের জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগ করা সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু সেখানে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পুরুষদেরও এ কাজে যুক্ত করা দরকার।

বিজ্ঞাপন
default-image

আসিফ সালেহ আরও বলেন, মহামারির ধাক্কায় সবাই আক্রান্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারীরা। পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় নারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেয়েদের ঝরে পড়া এবং বাল্যবিবাহের হার বেড়ে গেছে। বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা, যার শিকার হচ্ছেন নারীরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেও নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রান্তিক মানুষেরা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়েছেন। অসমতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

অতিদরিদ্র মানুষেরা সমাজে একরকম অদৃশ্য থেকে যান বলে মন্তব্য করেন আসিফ সালেহ। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এদের লক্ষ্য করে প্রণীত হয় না। এরা সক্ষম, তবে তাদের সহায়তা দরকার বলে মনে করেন তিনি। অতিদারিদ্র্য বিমোচনে ব্র্যাকের কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন আসিফ সালেহ। ২০০২ সালে এই কর্মসূচি গৃহীত হয়। এর আওতায় ব্র্যাক অতিদরিদ্র মানুষের নির্দিষ্ট একটি সম্পদ হস্তান্তর করে—গরু বা ছাগল। একই সঙ্গে সেই সম্পদ ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সেই সম্পদ যেন তাঁরা বিক্রি না করেন, সে জন্য কিছু টাকাও দেওয়া হয়। এভাবে দুই বছর একটি প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পের শেষে অনেকেই অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন বলে জানান আসিফ সালেহ।

ব্র্যাকের এই মডেল পরবর্তীকালে ছয়টি দেশে অনুসৃত হয়েছে বলে জানান আসিফ সালেহ। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এস্থার দুফলো দম্পতি এই মডেল নিয়ে বিস্তারিত কাজ করেছেন।

২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১৫ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়বে। সানেমের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪২ শতাংশ।

কোভিডের অভিঘাতে পৃথিবীতে অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১৫ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়বে। সানেমের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪২ শতাংশ। এই পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিজ্ঞাসা করেন, দারিদ্র্যের বিস্তার ঠেকাতে কী করা প্রয়োজন? জবাবে আসিফ সালেহ বলেন, দারিদ্র্যের এমন বিস্তার ঠেকানো ধনী দেশগুলোর নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে সবাইকে এখন একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

২০২০ সালে মহামারির মধ্যে দারিদ্র্য বাড়লেও ধনী মানুষদের সম্পদ আরও বেড়েছে। এই অসমতার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে বলে মনে করেন আসিফ সালেহ।
‘স্টপিং পোভার্টি ফ্রম গোয়িং ভাইরাল বা দারিদ্র্যের বিস্তার ঠেকানো’ শীর্ষক এই অধিবেশন সঞ্চালনা করেন কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাজলা রিজক। অংশগ্রহণ করেন কার্ডিনাল পিটার কোডো আপিয়াহ টার্কসন আঙ্কটাডের জ্যেষ্ঠ পরিচালক জেমস এক্স ঝান।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন