বিজ্ঞাপন

নগদ বাদে বাকি ১৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চের শেষে এই সেবার মোট গ্রাহক ছিল ১০ কোটি ২৭ লাখ ৯৬ হাজার। তবে সক্রিয় হিসাব ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ। মোট গ্রাহক হিসাবের মধ্যে পুরুষদের ৫ কোটি ৩০ লাখ এবং নারীদের ৪ কোটি ৫০ লাখ। আর এসব হিসাবে গত মার্চে জমা ছিল ৫ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে পুরুষ গ্রাহকদের হিসাব ছিল ৪ কোটি ১৫ লাখ এবং নারীদের ৪ কোটি ৮ লাখ। ফলে নারী ও পুরুষের হিসাব প্রায় কাছাকাছি এসে পড়ছে।

জানতে চাইলে শীর্ষ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই নারীদের হিসাব খোলায় প্রাধান্য দিয়েছি। এই কারণে অন্যদের চেয়ে বিকাশে নারী গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। বিকাশ হিসাব নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে। অর্থের ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।’

এমএফএস সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ভাতাভোগীদের বড় অংশই নারী। আবার করোনার কারণে পোশাকশ্রমিকদের যে বেতন–ভাতা বাবদ কম সুদের ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার পুরোটাই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিতরণ করতে হয়েছে। এ ছাড়া এখন প্রতিটি গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে। মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলতে কোনো খরচ না থাকায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে যাঁর মোবাইল আছে, তিনিই এখন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলছেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সেবায় গত জানুয়ারিতে লেনদেন হয়েছিল ৫৭ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ৫৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা এবং মার্চে ৫৯ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এতে দেখা যায়, এখন দৈনিক গড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এখন আর শুধু টাকা পাঠানোতেই সীমিত নয়। বরং এর মাধ্যমে দৈনন্দিন কেনাকাটা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানির বিলসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং মোবাইলে রিচার্জসহ নানা ধরনের সেবা মিলছে, যা মোবাইল ফোনের ব্যবহারকে বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে। ফলে এই সেবার গ্রাহক ও লেনদেন প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

গত মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ হয় ১ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা, সরকারি ভাতা বিতরণ হয় ১১৮ কোটি টাকা, বেতন–ভাতা দেওয়া হয় ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। আর গ্রাহকেরা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ওই মাসে ৬২৭ কোটি টাকা মোবাইল রিচার্জ করেছেন। একই সময়ে সেবাটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল পরিশোধ হয়েছে ৯৪০ কোটি টাকার।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যে শুধু লেনদেন সহজ করেছে তা নয়, ঘরে বসে বিভিন্ন বিল পরিশোধের সুবিধা চালু করে গ্রাহকদের যথেষ্ট স্বস্তি দিয়েছে।

আবার রাজধানী ও জেলা শহরে গাড়িচালক ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও এখন দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট, নগদ ব্যবহার করে। রিকশাচালক ও দৈনিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমজীবীরাও এখন এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন