কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গতকাল সকাল থেকে করিডরে আসতে থাকে মিয়ানমারের পশুবোঝাই ট্রলার ও কাঠের জাহাজ। বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২২টি জাহাজ ও ট্রলারে পৌঁছেছে ২ হাজার ৪৭১টি গরু ও মহিষ। শাহপরীর দ্বীপ জেটি দিয়ে পশুগুলো খালাস করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের সদস্যরা। পরে প্রতিটি পশুর বিপরীতে ৫০০ টাকা করে সরকারি রাজস্ব আদায় করে ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ কাস্টমস সুপার আব্দুন নূর বলেন, গতকাল ১০-১২ জন ব্যবসায়ী ২ হাজার ৪৭১টি গরু ও মহিষ এনেছেন। এসব পশুর বিপরীতে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা।

বন্ধ করিডরে পশু আমদানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, জেলা চোরাচালান টাস্কফোর্স কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মতে গত সোমবার থেকে করিডর দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ করা হয়েছিল। গত তিন দিনে এ করিডর দিয়ে কোনো পশু আমদানি হয়নি। এখন যেহেতু বিপুল পশু এসে গেছে, তাই রাজস্বও আদায় করতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পশু আমদানিকারক প্রথম আলোকে বলেন, কাল-পরশু আরও কয়েক হাজার পশু টেকনাফ করিডরে পৌঁছাতে পারে। মিয়ানমারের আকিয়াব (সিঠুয়ে) ও টংগু এলাকায় পশুগুলো জাহাজ ও ট্রলারে বোঝাই করা হচ্ছে।

বন্ধ করিডর দিয়ে পশু আনার বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বলেন, আমদানির পথে থাকা (বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে অবস্থান করা) কিছু পশু শাহপরীর দ্বীপ করিডরে এসেছে। শাহপরীর দ্বীপ করিডর চালু হয় ২০০৩ সালে। গত চার মাসে (মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন) ৪৪ হাজার ৪৩৬টি পশু আমদানির বিপরীতে সরকার রাজস্ব আদায় করেছে ২ কোটি ২২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। করিডরে প্রতিটি গরু ও মহিষের বিপরীতে রাজস্ব দিতে হয় ৫০০ টাকা।