এফবিসিসিআই সম্প্রতি নতুন আয়কর আইনের খসড়ার ওপর মতামত দিয়ে এমন সুপারিশ করেছে। সংগঠনটি তাদের সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আয়ের ওপর কর আরোপের মৌলিক ধারণার সঙ্গে ন্যূনতম করের বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য হিসাবের ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মোট আয়ের ওপর কর আরোপের মূলনীতি অব্যাহত রাখতে হবে। এ ছাড়া ছোট করদাতাদের হিসাব রাখার সক্ষমতা নেই। তাই তাঁদের জন্য অনুমিত আয়ের ভিত্তিতে করের বিধান রাখা উচিত।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশগুলো তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই, আয়কর নিয়ে বিশ্বে যেসব সর্বোত্তম চর্চা হয়, সেসব যেন বাংলাদেশেও হয়। কারণ, বাংলাদেশ উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, আইনটির খসড়া তৈরি করার সময় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এখন খসড়ার পর মতামত চাওয়া হয়েছে। অংশীজন হিসেবে আইনের খসড়া তৈরির সময় ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা উচিত ছিল।

রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রেও হ্রাসকৃত হারে কর দেওয়ার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই। বর্তমানে শুধু রপ্তানিকৃত তথ্যপ্রযুক্তিসম্পন্ন সেবার আয়ে কর অব্যাহতির সুযোগ আছে। অন্যান্য সেবা রপ্তানির ওপর কর অব্যাহতি নেই। সে জন্য এফবিসিসিআই যেকোনো রপ্তানি, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি এবং সেবা রপ্তানির আয়েও কর অব্যাহতি চায়।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত আইনে এ বিধান রাখা হয়নি। এতে পুঁজিবাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। তাই বিদ্যমান বিধান রাখার পক্ষে মত দিয়েছে সংগঠনটি।

লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে না করলে কিংবা গ্রহীতার টিআইএন না থাকলে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কাটার বিধান সব ক্ষেত্রে আরোপ না করে সীমিত কয়েকটি ক্ষেত্রে আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। তাদের যুক্তি হলো, করদাতাদের পক্ষে প্রস্তাবিত আইনের এ বিধান পরিপালন এবং হিসাব-নিকাশ করা দুরূহ হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা পালন করা সম্ভব নয়।

বর্তমান আয়কর অধ্যাদেশে উৎসে করসংক্রান্ত ৫৩টি ধারা ও একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি আছে। উৎসে করের হার দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ২৪টি উৎসে করহার আছে। এফবিসিসিআইয়ের দাবি, উৎসে করের হার সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যৌক্তিক করা। উৎসে করের খাত ক্রমান্বয়ে কমিয়ে শুধু বেতন, ফি, সুদ ও লভ্যাংশের মধ্যে সীমিত রাখার সুপারিশ করা প্রয়োজন।

স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কর কার্যক্রমের বিধান প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই। বর্তমান অধ্যাদেশ কিংবা প্রস্তাবিত আয়কর আইনের কোনোটিতেই এ বিধান রাখা হয়নি। এফবিসিসিআই বলছে, নতুন আইনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন, কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও আপিলসংক্রান্ত কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার বিধান রাখা উচিত। এ ব্যাপারে সংগঠনটি বলেছে, সশরীর উপস্থিত হয়ে এসব কার্যক্রম করা হলে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না। অনলাইনে এসব কার্যক্রম চালু হলে সময় ও কাজে স্বচ্ছতার উন্নতি হবে। করদাতারা অনাবশ্যক হয়রানি থেকে মুক্ত থাকবেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা কমানোর কথা বলেছে এফবিসিসিআই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এ দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া করদাতারা যাতে সহজে কর দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আয়কর আইনের খসড়া এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এরপর বিভিন্ন অংশীজনের কাছে মতামত চাওয়া হয়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন