বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চাষিরা জানান, হরমোন ব্যবহার করা বিড়ম্বনার ব্যাপার। তাই তাঁরা এখন কাঁচা টমেটোই বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার গোদাগাড়ী উপজেলায় ৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, এখন তো ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। তাঁদের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁরা এখন হরমোন দিয়ে পাকানো টমেটোর চেয়ে পরিপক্ব কাঁচা টমেটোই খেতে চান। টমেটো এখন আর সালাদের জায়গায় নেই। চাহিদা বাড়ায় কাঁচা টমেটো পুরোপুরি সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০০৯ সালের দিকে গোদাগাড়ীর তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এখানকার চাষিদের টমেটোতে হরমোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতন করার জন্য প্রচারপত্র বিলি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, শুধু পরিপক্ব টমেটোতেই খাদ্যের উপাদান পরিমাণমতো পাওয়া যায়। তাপে ও বাসি হলে টমেটোতে থাকা ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। এমনিতেই কচি টমেটোতে পরিমাণমতো পুষ্টিমান তৈরি হয় না। এতে যে ভিটামিন থাকে, তা রোদে শুকানো ও একাধারে পাঁচ-সাত দিন স্তূপ করে রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া হরমোন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

টমেটো এখন আর সালাদের জায়গায় নেই। চাহিদা বাড়ায় কাঁচা টমেটো পুরোপুরি সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
শারমিন সুলতানা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, গোদাগাড়ী

সরেজমিন ২১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কদমশহর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা টমেটো বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। সেখানে আলাপকালে টমেটোর ব্যাপারী পিয়ারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার কারওয়ান বাজারে নেওয়ার জন্য সেদিন তিনি ১৭০ মণ টমেটো কিনেছেন। তিনি বলেন, রাসায়নিকমুক্ত কাঁচা টমেটোরও চাহিদা তৈরি হয়েছে। সে জন্য তিনি গোদাগাড়ী থেকে কাঁচা টমেটোই কিনে থাকেন।

স্থানীয় আড়তদার হালিম রেজা বলেন, তাঁর আড়ত থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ মণ পর্যন্ত টমেটো ঢাকায় যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই গ্রাম থেকে সপ্তাহে ৫০০ মণের বেশি টমেটো ঢাকায় যায়।

এলাকার চাষি আবদুল আজিজ এবার আড়াই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, টমেটো চাষে তাঁর প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অবশ্য ইতিমধ্যে তাঁর উৎপাদন খরচ উঠে গেছে। এখন যা বিক্রি হবে, তা-ই মুনাফা। আরেক চাষি ওয়াহেদ আলী বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে টমেটো পাকতে পাকতে দর পড়ে যায়। তখন বিক্রি করে আর লাভ হয় না। আর কৃত্রিমভাবে পাকাতে গেলে ওষুধ, পরিচর্যার খরচসহ অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। সে জন্য তাঁরা কয়েক বছর ধরে কাঁচা টমেটো বিক্রি করছেন। কারণ, এখন কাঁচা টমেটোর বাজার বাড়ছে, দরও ভালো। তিনি আশা করছেন, তাঁর এক বিঘা জমিতে প্রায় ৯০ মণ টমেটো হবে। ইতিমধ্যে অর্ধেক টমেটো উঠে গেছে। প্রথম দিকে দাম বেশি ছিল। এখন দাম কমে আসছে।

২২ নভেম্বর বুধবার গোদাগাড়ীর গোপালপুর গ্রামের চাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, পাকানোর ঝামেলা এড়াতে তিনি এখন কাঁচা টমেটো বিক্রি করেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন