বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কর্মকর্তারা মনে করেন, ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড ও ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ভ্রমণের মতো সামর্থ্য যাঁদের আছে, তাঁদের যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ ও আয় রয়েছে। তাই কর ফাঁকি ঠেকাতে নতুন আয়কর আইনে নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের ওয়েবসাইটে আয়কর আইনের খসড়াটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এর ওপর ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত দেওয়া যাবে। এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে নতুন আয়কর আইনটি কার্যকর হতে পারে। আগেই যদি আয়কর আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়ে যায়, তাহলে আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন আইনের আওতায় রিটার্ন জমাসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এখন চলছে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দেওয়ার মৌসুম। এবার দেখা যাক, নতুন আয়কর আইনে একজন করদাতার রিটার্ন জমায় কী ধরনের পরিবর্তন আসছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া টিআইএন থাকলে সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন আইনেও তা একই রকম রাখা হয়েছে। তবে রিটার্ন জমার সময় সম্পদবিবরণী দাখিল ও জীবনযাত্রার বিবরণী জমায় আরও বেশি কঠোর হচ্ছে এনবিআর।

বর্তমানে ১৯৯৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ দিয়ে করসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন আয়কর আইনের খসড়ায় আগেরটির থেকে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আইনটির খসড়া নিয়ে ব্যবসায়ী, হিসাববিদ, আইনজীবীসহ সব অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত করা উচিত। তা না হলে ভ্যাট আইনের মতো লেজেগোবরে অবস্থা হতে পারে।’ তাঁর মতে, নতুন আইনটি যেন ছোট–বড় সব করদাতার জন্য সহজ ও করবান্ধব হয়, সেদিকে আরও নজর দেওয়া উচিত।

বিদেশে গেলেই সম্পদের তথ্য দিতে হবে

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বর্তমানে সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত আছে। এ তিন শর্তের একটি প্রযোজ্য হলেই সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক। শর্তগুলো হলো অর্থবছরে মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ হলে; একটি মোটরগাড়ির মালিক হলে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় গৃহ-সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হলে কিংবা এসব সম্পদে বিনিয়োগ করলেই সম্পদের রিটার্ন দিতে হয়।

এ ধরনের শর্তসংখ্যা নতুন আইনে আরও বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদেশ ভ্রমণ করলে সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া কোনো করদাতার বার্ষিক আয় যদি ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তাহলে তা জানাতে হবে।

কেউ যদি বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কেনেন, তাহলেও দেশের কর নথিতে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সম্পদের যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। বাংলাদেশের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বাড়ি-গাড়ির মালিক। অনেকে টাকা পাচার করে এমন সম্পদের মালিক হয়েছেন। এভাবে কানাডায় গড়ে উঠেছে ‘বেগমপাড়া’। মালয়েশিয়ায় ‘মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচিতেও শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে আছেন বাংলাদেশিরা। কিন্তু বর্তমান আইনে এসব সম্পদ দেখানো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন আইনে সেই বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে অনেকে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি বানিয়েছেন। তাঁরা কি এতই বোকা যে দেশে সেই সম্পদের কথা জানাবেন?’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন