default-image

নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারের পাশে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন মোহাম্মদ রোমান। জরি-চুমকি-লেসের ব্যবসা তাঁর। ছোট্ট দোকানটির ভাড়া প্রায় ১৫ হাজার টাকা। একসময় দোকান বেচাবিক্রিতে সরগরম থাকত। রোমানের ব্যবসার বড় ক্রেতা ছিল আশপাশের বিভিন্ন টেইলার্স বা দরজির দোকান। আবার নিউমার্কেটে আসা নারী ক্রেতারাও তাঁদের পছন্দের লেস কিনতে ভিড় করতেন রোমানের দোকানে।

সরকারের বিধিনিষেধের কারণে এখন রোমানের দোকান বন্ধ। তাই আয়-রোজগারও নেই। অথচ দোকান বন্ধ হওয়ার আগে আগেই ঈদের ব্যবসা ধরতে ধার করে ও বাকিতে পণ্য কিনে ব্যবসায় প্রায় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। আশা ছিল ঈদে বাড়তি আয় হবে, সেখান থেকে ধারের টাকার শোধ দেবেন। কিন্তু সেই ধারের টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরে থাক, এখন টিকে থাকতেই নতুন করে ধার করার উপক্রম। কারণ দোকান বন্ধ থাকলেও বন্ধ নেই দৈনন্দিন খরচ। সেই খরচ মেটাতেই হিমশিম অবস্থা।

রোমান জানান, ‘সারা বছর রেডিমেড পোশাক কিনলেও ঈদ, পয়লা বৈশাখ ও বিয়ের মৌসুমে নকশা করা জামাকাপড় বানান নারীরা। তখন হরেক রকম লেস, পুঁতি, টার্সেলের দরকার হয়। তাই এ সময়ই আমাদের ব্যবসার ভরা মৌসুম। এ বছরও এ মৌসুমে ব্যবসায় মার খেয়েছি। তাই ভেবেছিলাম এ বছর বিক্রি বাড়িয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এবারের ব্যবসার অবস্থা গতবারের চেয়ে খারাপ হবে।’

বিজ্ঞাপন

গত বছর করোনার কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে তখনো রোমানের দোকান বন্ধ ছিল কয়েক মাস। সংসার চালাতে তখন ৫০ হাজার টাকা ধার করেছিলেন। মাঝে বিয়ের মৌসুমে ব্যবসা কিছুটা ভালো যাওয়ায় সেই ঋণ শোধ করেন। হাতে তাই জমানো খুব বেশি টাকা নেই। দোকানভাড়াও বাকি। তাই বিকল্প ব্যবসা খুঁজছেন রোমান। করোনার এ সময়ে মানুষ সব ধরনের বাড়তি খরচই বাদ দিচ্ছেন। প্রয়োজনের বাইরে তেমন খরচই করছেন না। তাই রোমানের জরি-পুঁতি-লেস হারিয়ে যাচ্ছে চাহিদার তালিকা থেকে।

রোমান বলেন, ‘এমনিতে নিজের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঈদের বিক্রির জন্য বাড়তি যে পণ্য কিনেছিলাম, তার সরবরাহকারীরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন।’ লাভের আশায় বাকিতে তোলা পণ্য এখন রোমানের গলার কাঁটা। তাই রোমান আক্ষেপ করে বলেন, বাকিতে এসব পণ্য না তুললে হয়তো ঋণের বোঝা থাকত না।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন