সরকারের উদাসীনতা, অব্যবস্থাপনাসহ নানা সংকটের কারণে রাঙামাটি বিসিক শিল্পনগর এখন খুবই ঢিলেঢালাভাবে চলছে। তাই স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে সেভাবে এগিয়ে আসছেন না। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো নির্মাণ, পানি ও বিদ্যুৎ–সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

জেলা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি সড়কের ত্রিমুখী এলাকায় সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়িতে ১৯৯৭ সালে সাড়ে ১২ একর জমির ওপর এই শিল্পনগর প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর কয়েকজন উদ্যোক্তা এখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে আইচ প্র্যান, তন্ময় অটো রাইচ মিল, রাঙামাটি প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আবুল খায়ের ফার্নিচার মার্ট, প্যারামাউন্ট অটো ফ্লাওয়ার মিল, বাবর টেক্সটাইলসহ ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। শিল্পনগর কর্তৃপক্ষ তথা বিসিক বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা ও সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করলে আরও ২৫টি প্লটে শিল্প গড়ে উঠবে বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কয়েক হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

রাঙামাটি শিল্পনগরে বিসিকের একটি কার্যালয় রয়েছে। এতে একজন করে কারিগরি বা শিল্পনগর কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, মুদ্রাক্ষরিক, পাম্পচালক, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তা প্রহরী মিলিয়ে ছয়টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে কারিগরি কর্মকর্তাসহ তিনটি পদই খালি রয়েছে। কারিগরি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিসিক কার্যালয়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সান্তপন বড়ুয়া।

বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তা সত্ত্বেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে। আমাদেরও জনবলসংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সান্তপন বড়ুয়া, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, বিসিক, রাঙামাটি।
default-image

প্লটমালিকদের অভিযোগ, রাঙামাটি বিসিক শিল্পনগরের নিরাপত্তা দেয়াল না থাকায় স্থানীয় যুবকেরা রাতে এখানে নেশা করে, জুয়া খেলে ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। এ জন্য তাঁরা নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণসহ বিদ্যুৎ–সংযোগ, পানি সরবরাহ, নিরাপত্তা, সড়কগুলোর সংস্কার—এসব নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মনে করেন, পুরো শিল্পনগর এলাকাটি অরক্ষিত থাকায় উদ্যোক্তাদের সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। তাঁদের দাবিগুলো পূরণ হলে অনেক ব্যবসায়ীই এখানে বিনিয়োগ করতে আসবেন।

জানতে চাইলে রাঙামাটি প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মো. রাজা মিয়া বলেন, ‘২০১৭ সালে রাঙামাটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মানিকছড়ি ছড়াটি ভরাট হয়ে যায়। এরপর সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে আমাদের প্রতিষ্ঠান তলিয়ে যায়। এ ছাড়া পানিসংকট ও অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক রয়েছে।’

তন্ময় অটো রাইচ মিলের মালিক তপন কান্তি পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৪ সালে বিসিক শিল্পনগরে ব্যবসা শুরু করেছি। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু এত বছরেও কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ–সংযোগ, সড়ক যোগাযোগ ও পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি।’

জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও শিল্পনগরটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সান্তপন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। তা সত্ত্বেও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করার চেষ্টা চলছে। আমাদেরও জনবলসংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বিসিকের এই শিল্পনগরে আগামী দিন আরও ১০০ থেকে ১৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন