বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে, তাঁদের আয়ের ওপর সারচার্জ আরোপ হয়। যে অর্থবছরে আয় হবে, তার পরের অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে বার্ষিক আয়কর বিবরণীর সঙ্গে সারচার্জের অর্থ জমা দিতে হয় করদাতাদের।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সারচার্জ দেওয়া কর অঞ্চল-১০–এ নিবন্ধিত করদাতাদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার করদাতা চিকিৎসক। এ ছাড়া এই কর অঞ্চলে কিছু কোম্পানির পরিচালক ও মোহাম্মদপুর এলাকার করদাতাও রয়েছেন।

জানতে চাইলে কর অঞ্চল-১০–এর কমিশনার মো. লুৎফুল আজীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পেশাজীবীরা তুলনামূলক কর ফাঁকি কম দেন। আবার তাঁরা নামে–বেনামে সম্পদ লুকিয়েও রাখেন না। তাই অনেকের তুলনায় পেশাজীবী শ্রেণির কাছ থেকে সম্পদের বিপরীতে বেশি সারচার্জ পাওয়া গেছে।

লুৎফুল আজীম আরও বলেন, এই কর অঞ্চলে এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে কর নথি ব্যবস্থাপনা করা হয়। এ ছাড়া জনবলের তুলনায় করদাতার সংখ্যাও বেশি। যদি কর নথি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা সম্ভব হয়, তাহলে আরও বেশি কর পাওয়া যেত। প্রকৃত সম্পদধারীর সংখ্যাও বাড়ত।

এনবিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০১৯–২০ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৮৯২ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছেন। ওই অর্থবছর সারচার্জ বাবদ এনবিআর পেয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। যাঁরা তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদের জন্য সারচার্জ দিয়েছেন, তাঁদের ৬৬ শতাংশই রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, সম্পদের মূল্য বিবেচনার ক্ষেত্রে কেনা দামকে মূল্যায়ন করা হয়, এ কারণে অনেকে সারচার্জের আওতার বাইরে থাকছেন। কারণ, সম্পদের বিবরণীতে সম্পদের হস্তান্তর মূল্যই থাকে। ফলে অতীতে যাঁরা সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাঁদের অনেককে সারচার্জ দিতে হয় না।

এদিকে কর অঞ্চল-১০–এর পরে কর অঞ্চল-৬–এর করদাতাদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সারচার্জ পেয়েছে এনবিআর। এই কর অঞ্চলের করদাতারা ধানমন্ডির একাংশ, কলাবাগান ও পান্থপথের বাসিন্দা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কর অঞ্চল–৬–এর ৭৩১ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছেন।

দেশের ব্যাংক, বিমা, বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ বড় ব্যবসায়ীরা বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) কর দেন। এলটিইউয়ের ৭০৬ জন করদাতার মধ্যে ২৩১ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছেন ২০১৯–২০ অর্থবছরে। তার মানে, এলটিইউতে নিবন্ধিত করদাতা বড় ব্যবসায়ীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা নিজেদের বদলে কোম্পানি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামেই বেশি সম্পদ দেখান। ফলে তাঁদের কাছ থেকে কম সারচার্জ পাওয়া যায়।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের ১ হাজার ৮৬৫ জন করদাতা উল্লেখিত অর্থবছরে সারচার্জ দিয়েছেন। বছরটিতে সবচেয়ে কম সারচার্জ পাওয়া গেছে বগুড়া থেকে। বগুড়ার মাত্র ৮৯ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছেন।

নব্বইয়ের দশকে দেশে সম্পদ করের বিধান করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সারচার্জের বিধান করা হয়। তখন অবশ্য দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হতো। গত কয়েক বছরে এমন সম্পদধারী তিন গুণ বেড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে মাত্র ৪ হাজার ৪৪৬ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁরা সারচার্জ বাবদ মাত্র ৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেন। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদধারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজারের কাছাকাছি।

বাংলাদেশে ধনীদের মধ্যে সম্পদ লুকানোর প্রবণতা আছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের অনেকেই সম্পদ নিজের নামে রাখেন না। প্রতিষ্ঠানের নামে বাড়ি–গাড়ি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে বাড়ি–গাড়ির সুবিধা নেন। ফলে তাঁদের কর নথিতে এসব দেখানো হয় না।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন