default-image

বসন্তবরণ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে নগরবাসী। উৎসব দুটিকে রাঙিয়ে দিতে দেশীয় ব্র্যান্ড ও বুটিক হাউসগুলো বাহারি নকশার পোশাক নিয়ে এসেছে। করোনার এ সময়ে বাসন্তী, লাল, হলুদ, কমলা, সবুজসহ নানা রঙের পোশাকের বিক্রিও খারাপ না। গতবারের মতো ভালো ব্যবসা করছে, এমন প্রতিষ্ঠানও আছে।

বসন্ত ও ভালোবাসার আয়োজন কেন্দ্র করে গত বছর ভালো ব্যবসা হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বেচা–বিক্রি কিছুটা কম। তবে এবার যে বেচা–বিক্রি হচ্ছে করোনার এই সময়ে সেটিকে বেশ ইতিবাচকই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, পয়লা ফাল্গুন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস কেন্দ্র করে ব্যবসা অল্প হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। মহামারির কারণে বেশ কয়েক মাস বলতে গেলে তেমন কোনো ব্যবসা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার-পাঁচ বছর ধরে বসন্তবরণে রাজধানীতে পোশাক বেচা–বিক্রি বেড়েছে। সে কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও বুটিক হাউস তাদের সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে করোনার কারণে গত দুই ঈদে ব্যবসা খারাপ হওয়ায় আর্থিক সংকট ও বিক্রি কেমন হবে, সেই শঙ্কায় গতবারের তুলনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই নতুন পণ্য তুলেছে কম।

বসন্তবরণে অধিকাংশেরই পছন্দ দেশীয় পোশাক। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে দেশী দশ। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশী দশের বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেকেই কমবেশি নতুন পোশাক এনেছে। ভরদুপুরে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের বিক্রয়কর্মীরা জানালেন, বিক্রি মন্দ হচ্ছে না। আজ ও আগামীকালের সাপ্তাহিক ছুটিতে ভালো বিক্রি হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

দেশী দশের অন্যতম অংশীদার রঙ বাংলাদেশ। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘ব্যবসা খারাপ হচ্ছে না। তবে বিগত দিনগুলোতে বিক্রিবাট্টা নিয়ে একটা ধারণা করা যেত। করোনার কারণে সেটি হচ্ছে না, এক দিন ভালো হচ্ছে তো আরেক দিন খারাপ। তারপরও বিক্রি যেটুকু হচ্ছে, সেটি ইতিবাচক।’

স্বাভাবিক সময়ে মাসে যে বিক্রি হয় তার তুলনায় বসন্তবরণ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের বিক্রি প্রায় দেড় গুণ হয়, এমনটা জানিয়ে সৌমিক দাশ বললেন, করোনার কারণে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। সে কারণে উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

দেশীয় পোশাকের আরেক বড় ব্র্যান্ড আড়ংয়েও ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডে তাদের ৩৫ হাজার বর্গফুটের নতুন বিক্রয়কেন্দ্রে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেল, নানা বয়সের মানুষ কেনাকাটা করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বসন্তবরণের পোশাক কিনছিলেন। অনেকে আবার নতুন বিক্রয়কেন্দ্রটি কেমন হলো, সেটিও ঘুরে দেখতে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন

আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. আশরাফুল আলম বলেন, করোনার টিকা আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তা ছাড়া অনেক দিন কোনো উৎসব ছিল না। ফলে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বিক্রি বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটুকু ব্যবসা হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন জারি করার আগে গত বছর বসন্তবরণ, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে দেশীয় ব্র্যান্ড ও বুটিক হাউসগুলো ভালো ব্যবসা করে। তারপর লকডাউনে পয়লা বৈশাখ ও দুই ঈদে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় নগদ টাকার সংকটে পড়ে যায় প্রতিষ্ঠানগুলো। পণ্যের স্টক জমে গেছে। তখন মূল্যছাড়ের দিকে ঝুঁকে অধিকাংশ ব্র্যান্ড। তাতে গত সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি বাড়তে থাকে।

নতুন ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্নোটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সারা লাইফস্টাইল গত কয়েক বছরে ভালো জায়গা করে নিয়েছে পোশাকের জগতে। জানতে চাইলে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ বলেন, ‘বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমরা যে পোশাক করেছিলাম তার অধিকাংশই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই দিন ভালো বিক্রি হবে।’

দেশীয় ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউসে বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে কত টাকার পোশাক বিক্রি হয়, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি বা ফ্যাশন উদ্যোগ) সভাপতি শাহীন আহম্মেদ বললেন, ‘সারা বছর যে বিক্রি হয় তার ৩-৪ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি উৎসবে বিক্রি হয়। গত বছর এই সময়ে আমরা ভালো ব্যবসা করেছিলাম। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। গত কয়েক মাসের তুলনায় বেচা–বিক্রি যা হচ্ছে, সেটি আশাব্যঞ্জক।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন