default-image

পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের পথে হাঁটল না ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। সমঝোতার ভিত্তিতে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ৪৬ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ সদস্যরা আর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের আজিজুল হক, গাইবান্ধা চেম্বারের আবুল খায়ের মোরসেলিন, ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আক্কাস মাহমুদ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ মালিক সমিতির মো. আলী জামান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাতেই ভোটের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, পদের বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো প্রার্থী নেই। এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন বোর্ড আজ সোমবার আগামী মেয়াদের জন্য সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে।

জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। পদের বিপরীতে অতিরিক্ত কেউ না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হবে না। আগামী মাসে সভাপতি ও সহসভাপতি পদের নির্বাচন হবে।

বিজ্ঞাপন

২০২১-২৩ মেয়াদের জন্য সংগঠনটিতে মোট পরিচালক পদ ৮০টি। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে ৪০টি পদে পরিচালক হবেন। বাকি পদ পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য সংরক্ষিত। ৮০ পরিচালক পদের মধ্যে ৪৬টিতে সাধারণ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পান। বাকি ৩৪টি পদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন থেকে মনোনীত পরিচালক হোন।

নির্বাচিত পরিচালকেরা তাঁদের মধ্য থেকে সভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি বেছে নেবেন। বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন আগামী মেয়াদে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হচ্ছেন, সেটি মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ, সভাপতি পদে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত পাওয়া জসিম উদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কেউ নেই। অতীতেও দেখা গেছে, সভাপতি ও সহসভাপতি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না।

জানা যায়, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৭ জন করে ৩৪ জন মনোনীত পরিচালক হওয়ার জন্য আবেদন করেন ৩২ জন ব্যবসায়ী। মনোনীত পরিচালক পদে প্রার্থী দেয়নি গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)। অন্যদিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার জন্য চেম্বার গ্রুপের ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে ২৫ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী হোন ২৬ জন। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) খেলাপি হওয়ায় কে এম আখতারুজ্জামান মনোনীত পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা হারালেও পরে প্রার্থিতা ফিরে পান। তিনি অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে প্রার্থী হয়েছেন।

এফবিসিসিআইয়ের ২০১৯-২১ মেয়াদে নির্বাচনে মোট পদ ছিল ৭২। তার মধ্যে ৪২টি পরিচালক পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে পদের বিপরীতের সমানসংখ্যক মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ফলে কারও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তখনো সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন শেখ ফজলে ফাহিম।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ মে এফবিসিসিআইয়ের দ্বিবার্ষিক-বার্ষিক নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে জয়ী সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। পরিচালক পদেও চেম্বার অংশে ভোটাভুটি ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তবে পণ্যভিত্তিক সংগঠন বা অ্যাসোসিয়েশন অংশে তখন ভোটাভুটি হয়েছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভোটাররা।

এফবিসিসিআইয়ে পরপর দুই মেয়াদে ভোট ছাড়াই নেতৃত্ব নির্বাচন হচ্ছে। অধিকাংশ ব্যবসায়িক সংগঠনে ভোটের সংস্কৃতি প্রায় উঠেই গেছে। তবে ৪ এপ্রিল তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হয়েছে। করোনার মধ্যেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য ভোট দেন।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন