বিজ্ঞাপন
default-image

মির্জাপুরের মাঠে এখন নারী-পুরুষ মিলেমিশে কাজ করছেন। কেউ খেত থেকে পাকা মরিচ তুলে বস্তা ভরে নিয়ে আসছেন। আবার কেউ পলিথিন বিছিয়ে সেই মরিচ শুকাতে দিচ্ছেন এবং একটু পরপর মরিচ নাড়াচাড়া করছেন। এ সময় নষ্ট বা পচা মরিচ বাছাই করে আলাদাভাবে রাখা হয়। তবে মাঝেমধ্যে আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে, অর্থাৎ বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে দ্রুত প্লাস্টিক দিয়ে মরিচ মুড়িয়ে রাখা হয়। তখন কৃষকেরা রোদ ওঠার অপেক্ষায় মাঠে বসে থাকেন। আকাশে রোদ উঁকি দিতেই আবার তাঁরা ওই পলিথিন বিছিয়ে মরিচ শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শুকানো হয়ে গেলে মাঠ থেকেই বা বাড়ি হয়ে মরিচ বিক্রি করতে বাজারে ছোটেন কৃষকেরা। এবারের ফলন ও দামে তাঁরা ভীষণ খুশি বলে জানান।

এবার পঞ্চগড় জেলায় মোট ৪৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মরিচের ফলন হতে পারে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর পচন রোগ কম হয়েছে। ফলে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
মিজানুর রহমান, উপপরিচালক, কৃষি বিভাগ, পঞ্চগড়।
default-image

ওই এলাকার অধিকাংশ কৃষকই মরিচ চাষ করেন। মাঠেই কথা হয় মরিচচাষি অনীক হোসেনের সঙ্গে। প্রথম আলোকে জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই মরিচ চাষের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের পর তিনি আর পড়াশোনা করেননি। মরিচসহ অন্যান্য কৃষিকাজে জড়িত হয়েছেন। এবার ঝড়বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছেন, মোট ৩০ মণ মরিচ পাওয়া যাবে। তা বিক্রি করে মিলবে দেড় লাখ টাকার মতো।

অনীক বলেন, ‘কাঁচা মরিচের দাম কম। তাই মরিচ পাকাই। কারণ, পাকা মরিচের চাহিদা ভালো। বড় বড় প্রতিষ্ঠান ট্রাক নিয়ে এখানে মরিচ কিনতে আসে। সে জন্য এ সময় মির্জাপুর এলাকা কর্মচঞ্চল থাকে।’ মণপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা করে পান অনীক।

জেলার কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেল, পঞ্চগড়ে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বাঁশগাইয়া, মল্লিকা, বিন্দু, হট মাস্টার, সুরক্ষাসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের মরিচের আবাদ করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা সাধারণত উঁচু জমিতেই মরিচের আবাদ করেন। এই জেলার পাঁচ উপজেলাতেই কমবেশি মরিচ চাষ হয়ে থাকে। তবে আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলায় মরিচের চাষ বেশি হয়।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, এবার পঞ্চগড় জেলায় মোট ৪৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মরিচের ফলন হতে পারে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বছর পচন রোগ কম হয়েছে। ফলে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন