default-image

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের সব ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর তথা ২০২০ সালে ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছে, তার ১ শতাংশ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খরচ করতে হবে। ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরের আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা যাবে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ গতকাল এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খরচ করা অর্থের ৫০ শতাংশ সিটি করপোরেশন এবং বাকি ৫০ শতাংশ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খরচ করতে হবে। আর এ অর্থ খরচ করতে হবে আগামী জুনের মধ্যে। অর্থাৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফার ১ শতাংশ অর্থ খরচ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলো ২০২০ সালের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ প্রকৃত মুনাফা করেছে, তার ১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ সিএসআর খাতে বরাদ্দ করবে। আর সেটি করতে হবে ২০২১ সালের সিএসআর খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত হিসেবে। প্রয়োজনে স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে এ বরাদ্দের অনুমোদন নিতে হবে। বরাদ্দকৃত অতিরিক্ত অর্থ জুনের মধ্যে সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির ফলে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়েছে। আবার অনেকে খাদ্যসংকট ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তাই গরিব, ছিন্নমূল, দুস্থ ও অসহায় জনগোষ্ঠী নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়সহ চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মহীন মানুষের জীবিকা নির্বাহে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া দরকার। সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিপালনে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তাই সিএসআর খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সিএসআর খাতে অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তর নিশ্চিত করে তা ১৫ মের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগকে জানাতে হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়। অতিরিক্ত বরাদ্দ করা অর্থ ব্যাংকগুলো ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন বছরে সিএসআর খাতে বরাদ্দ বা ব্যয় করা অর্থের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ পাবে।

করোনার এ সময়ে গরিব মানুষকে সহায়তা দেওয়ার এই উদ্যোগের সুফল যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পান, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে গত মার্চ থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যায়। সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করে। তার আগে ৫ এপ্রিল থেকে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তখন সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি গরিব মানুষকে সহায়তার নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ব্যবসার ক্ষতি পোষাতে দেওয়া হয়েছিল প্রায় লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় গরিব মানুষের সহায়তায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত বছর করোনার প্রথম ধাক্কার সময় দেশজুড়ে গরিব মানুষের সহায়তায় বেসরকারিভাবে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক যে উদ্যোগ ছিল, এবার তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। এমন এক পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সহায়তায় অথবা শীর্ষ পর্যায়ের বেসরকারি সংস্থা ও ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার মাধ্যমে করোনা সহায়তার সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে আলাদা হিসাব রাখতে হবে। প্রতিটি ব্যাংককে প্রদত্ত টাকার পরিমাণ, উপকারভোগীর সংখ্যা, সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের নামসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এ কাজে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সমন্বয়ক ও সহায়তাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। বরাদ্দকৃত অর্থ যেন কোনো বিশেষ এলাকায় কেন্দ্রীভূত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করারও কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে যে সিএসআর নীতিমালা রয়েছে, সেখানে সিএসআরে মোট বরাদ্দ করা অর্থের ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার বিধান আছে। গত বছর করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দের পুরোটা করোনা মোকাবিলায় দিতে বলা হয়েছিল। সিএসআর ব্যয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফা থেকে যে টাকা সিএসআর খাতে জনকল্যাণমূলক বা দাতব্য কাজে ব্যয় করবে, সে জন্য তাদের কর দিতে হয় না।

সিএসআরে কত টাকা ব্যয় করা যাবে, তার কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। তবে কোন খাতে কত অংশ ব্যয় করতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী সিএসআর খাতের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে, ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ১০ শতাংশ জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল খাতে ব্যয় করতে পারে ব্যাংকগুলো।

বিজ্ঞাপন
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন