এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘এক্সপোর্ট চ্যালেঞ্জেস অব বাংলাদেশ আফটার গ্র্যাজুয়েশন ফ্রম এলডিসি স্ট্যাটাস: অপশনস ফর দ্য প্রাইভেট সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। সেগুলো হলো—তখন শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে না, রপ্তানিতে ভর্তুকি দেওয়া যাবে না এবং ট্রিপসের আওতায় সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে পোশাক রপ্তানিতে কানাডায় সাড়ে ১৬ শতাংশ, ইইউতে সাড়ে ১১, জাপানে ৯, কোরিয়ায় সাড়ে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হবে। সেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের হাতে সময় আছে চার বছর। এটি মোটেও কম সময় নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। তিনি বলেন, করোনার টিকা ক্রয় ও মেগা প্রকল্পগুলোতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যেন অন্তত ছয় বছর শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সঙ্গে দর-কষাকষি চলছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে রপ্তানি ও বাণিজ্য সক্ষমতা ধরে রাখতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিকল্প নেই।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শরিফা খান বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাত যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ। দেশে প্রায় সব ধরনের পণ্যই উৎপাদিত হয়। কিন্তু এসব পণ্যকে রপ্তানি বাজারের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডার) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মামুন রশীদ, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির প্রমুখ।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন