default-image

উৎসব মানেই মূল্যছাড়—যুগ যুগ ধরে এমন চর্চাই চলে আসছে সারা পৃথিবীতে। কিন্তু বাংলাদেশ চলছে তার শতভাগ বিপরীত দিকে। বাংলাদেশে উৎসব মানেই ব্যবসায়ীরা নেমে পড়েন বেশি মুনাফা করার প্রতিযোগিতায়। বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম ছাড়া এ দেশে নিত্যপণ্য থেকে পোশাক—সবকিছুতেই কমবেশি এমন প্রতিযোগিতা চলে।

বাঙালি মুসলমানদের জীবনে প্রধান উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর। কিন্তু প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস এলেই ভয়ে থাকেন ভোক্তারা—মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াবেন! এবারে রমজান আসতে আর তিন সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা তাঁদের বহু বছরের পুরোনো অভ্যাস অনুযায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করে দিয়েছেন। তাই সরকারকে বিকল্প পথ অবলম্বন করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কী সেই পথ? প্রশ্নটি করা হলে বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীন গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমরা সরকারি বিক্রয়কারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সক্ষমতা বাড়িয়েছি। এ জন্য আমরা মাথায় রেখেছি, বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যের হারকে। এই হার এখন ১২ শতাংশ। রমজানে যেসব পণ্যের বেশি চাহিদা থাকে, সেগুলোর ১০ থেকে ১২ শতাংশ টিসিবির মজুতে রয়েছে।’

নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী রোববার টাস্কফোর্সের বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি ও টিসিবির মজুতের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এতে দেখা যায়, ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ টন। আর মাসিক চাহিদা ১ লাখ ৫৪ হাজার টন। রমজানে মাসিক চাহিদা বেড়ে ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যায়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে টিসিবির ৪৫ হাজার টন ভোজ্যতেল বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে। রমজান উপলক্ষে সংস্থাটি সাশ্রয়ী মূল্যে ২৬ হাজার ৫০০ টন ভোজ্যতেল বিক্রি করবে।

চিনির মাসিক চাহিদা ১ লাখ ৩৬ হাজার টন। টিসিবি রমজানে বিক্রি করবে ১৮ হাজার টন। মসুর ডালের ৮০ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে সংস্থাটি বিক্রি করবে ১২ হাজার টন। রোজায় ছোলার চাহিদা ৮০ হাজার টন, টিসিবি বিক্রি করবে ৮ হাজার টন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২৫ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার মধ্যে রমজানেই পেঁয়াজের চাহিদা ৫ লাখ টন। তবে পেঁয়াজের দাম, উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সন্তোষজনক থাকায় টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা শুধু ৬ হাজার টন।

রফিকুল ইসলাম নামের এক কলেজশিক্ষক গতকাল কারওয়ান বাজার থেকে বাজার করে রিকশায় ফিরছিলেন। রমজানের বাজার শুরু করে দিয়েছেন কি না? জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এত আগে রমজানের বাজার কেন?’ একসঙ্গে সবাইকে বাজারে ঝাঁপিয়ে না পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে ১৭ মার্চ থেকে ৪০০ ট্রাকের মাধ্যমে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। রমজান উপলক্ষে দ্বিতীয় ধাপে বিক্রি শুরু হবে ১ এপ্রিল থেকে। তখন ছোলা ও খেজুর যুক্ত করার পাশাপাশি ট্রাকসংখ্যা বেড়ে ৫০০টিতে উন্নীত হবে।

ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা দিনে ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৫৫ টাকা কেজি দরে ২ কেজি মসুর ডাল, ৯০ টাকা দরে ৫ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৫ টাকা দরে ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। কেউ ট্রাক থেকে না কিনে ই-কমার্সের মাধ্যমেও এসব পণ্য কিনতে পারবেন।

উৎসব এলেই ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন, কয়েক বছরের প্রবণতা হচ্ছে উৎসব আসার আগেই তারা এ কাজটি করেন। ঢাকার মৌলভিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বিদেশের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো, ৫০০ শতাংশ মুনাফা করে, তারা উৎসবে মূল্যছাড় দিতে পারে। আমো মুনাফা করি ২–৩ শতাংশ।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন