বিজ্ঞাপন
এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, একজন গাড়ির মালিকের প্রতিবছর ৩ লাখ টাকা করযোগ্য আয় নেই, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবকে আধা সরকারি পত্র নিয়ে ওই মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ করেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি আয়কর আদায় হয়—এমন ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে এনবিআর থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকেও (বিআরটিএ) একই অনুরোধ করেছে এনবিআর। গাড়িওয়ালাদের এখন রিটার্ন জমার রসিদ দিতে হবে।

ধরুন, আপনার একটি গাড়ি আছে। এত দিন প্রতিবছর গাড়ির ফিটনেস সনদ নিতে হতো। এখন প্রতি দুই বছর পরপর তা নিতে হবে। তবে আপনাকে প্রতিবছরই ১৫ হাজার কিংবা ২৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এই টাকা আপনি ব্যাংকে জমা দেবেন। এই করের টাকা জমা দেওয়ার সময় ব্যাংকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ দেখাতে হয়। এখন থেকে আপনি রিটার্ন দিয়েছেন কি না, সেই প্রাপ্তি রসিদ দেখাতে হবে। এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, একজন গাড়ির মালিকের প্রতিবছর ৩ লাখ টাকা করযোগ্য আয় নেই, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

অনেকেই সেবা নেওয়ার জন্য শুধু টিআইএন সনদ নেন। কিন্তু রিটার্ন জমা বা কর দেন না।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর দুই লাখের বেশি ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ফিটনেস সনদ নেন। ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার আগে বিআরটিএতে নির্ধারিত ফি জমার পাশাপাশি অগ্রিম কর হিসেবে সিসিভেদে ১৫ হাজার বা ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। ব্যাংকে টাকার জমার সময় টিআইএন সনদের পরিবর্তে রিটার্ন জমার রসিদ দেখাতে হবে।

টিআইএনের বদলে রিটার্ন জমার রসিদ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে গত মার্চ মাসেই আলোচনার সূত্রপাত করে এনবিআর।

গত ১৫ মার্চ এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে ওই ১০ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), স্থানীয় সরকার বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আলোচনা হয়, অনেকেই সেবা নেওয়ার জন্য শুধু টিআইএন সনদ নেন। কিন্তু রিটার্ন জমা বা কর দেন না।

সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো এনবিআরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যে সরকারি কেনাকাটার দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ই-টিআইএন সনদ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোটরযান ফিটনেস নবায়ন, ঠিকাদারি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই টিআইএন সনদ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ঠিকাদার বা সরকারি সেবা গ্রহণকারীদের অনেকেই রিটার্ন দাখিল করেন না। একজন মোটরযান মালিক রিটার্ন দাখিল না করেই শুধু টিআইএন সনদ দিয়ে মোটরযান নবায়ন করেন। ফলে অনেক টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল না করে কর ফাঁকি দিচ্ছেন। তাই সরকারি সেবা ও ঠিকাদারি সরবরাহের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদের পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে।

নাম প্রকাশে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র চাওয়া হলে কর জাল বৃদ্ধি পাবে। প্রকৃত করদাতা মিলবে। অনেকে ঠিকাদারি করা কিংবা গাড়ি কেনার জন্য ইটিআইএন নেন, কিন্তু রিটার্ন দেন না।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়করের প্রায় ৮৪ শতাংশই আদায় হয় উৎসে কর ও অগ্রিম কর হিসেবে। এনবিআরের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যত টাকা উৎসে বা অগ্রিম আয়কর আদায় হয়, এর ২২ শতাংশই আসে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের সময় কেটে রাখা উৎসে কর থেকে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন